
ডেস্ক প্রতিবেদক |
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুলিশ। সারা দেশে মোট ৬ হাজার ৭৪৮টি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করবে। বিশেষ প্রযুক্তি হিসেবে এবার ঝুঁকিপ্রবণ এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের গায়ে থাকবে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় সবচেয়ে বেশি ২,১১৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। চট্টগ্রাম বিভাগে এই সংখ্যা ৮১৩। এছাড়া ডিএমপি এলাকায় ২,১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৫৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও বাড্ডা এলাকা উল্লেখযোগ্য।
ঝুঁকির প্রধান কারণসমূহ:
পেশিশক্তির প্রভাব ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা।
থানা থেকে কেন্দ্রের ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা।
দুর্গম এলাকা এবং কিছু অঞ্চলে চরমপন্থিদের প্রভাব।
গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের সময়কার রাজনৈতিক মেরুকরণ।
আইজিপি বাহারুল আলম জানান, "ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বরাবরের মতো কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। এবার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ দেওয়া হবে, যাতে কেন্দ্রের ভেতরে কোনো কারচুপি বা অনিয়ম হলে তা সরাসরি রেকর্ড থাকে।
নির্বাচনের সময় গুজব ছড়ানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে পুলিশ। ডিএমপির সাইবার টিমসহ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবে। কোনো এলাকায় গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে কাজ করবে সাইবার বিভাগ।
জুলাই বিপ্লবের সময় বিভিন্ন থানা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়াকে নির্বাচনের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনো ১,৩৪০টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে দেশব্যাপী অপারেশন চলছে।
নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন। কোনো কেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক প্রার্থীদের ফোন করবে, যাতে তাদের সমর্থকরা আইন প্রয়োগে সহযোগিতা করে। ভোটের আগে সব প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে দেওয়া হবে।