
নিউজ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি: বকেয়া ওভারফ্লাইট চার্জ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ওপর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘ সময় ধরে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ফি পরিশোধ না করায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের বিনিময়ে স্পাইসজেটের কাছে একটি বড় অঙ্কের ফি পাওনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী কোনো দেশের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘ওভারফ্লাইট চার্জ’ প্রদান করতে হয়। স্পাইসজেট এই বকেয়া মেটাতে বারবার কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়েই তাদের জন্য বাংলাদেশের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে স্পাইসজেটের বেশ কিছু রুটের ফ্লাইটের সময় ও দূরত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী ফ্লাইটগুলোর ওপর।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম 'ফ্লাইটরাডার২৪'-এর তথ্যানুযায়ী, স্পাইসজেটের বিমানগুলো এখন বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প করিডোর ব্যবহার করছে। সাধারণত কলকাতা থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় হয়। এখন ঘুরে যেতে হওয়ায় প্রতিটি ফ্লাইটে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে এবং জ্বালানি খরচ বেড়েছে।
আর্থিক সংকটে জর্জরিত স্পাইসজেটের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা নতুন এক মরণফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, সংস্থাটি ইতিমধ্যে ২৬৯ দশমিক ২৭ কোটি রুপি নিট লোকসান গুনেছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ পথ ঘুরে ফ্লাইট পরিচালনা করায় অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ তাদের লোকসানের বোঝাকে আরও ভারী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বের এই পূর্বাঞ্চলীয় রুটে স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা করা স্পাইসজেটের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কলকাতা-গুয়াহাটি ও কলকাতা-ইম্ফল রুটে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বেবিচকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিমান সংস্থাকে আকাশসীমা ব্যবহারের নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্পাইসজেটকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনো সাড়া দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। বকেয়া পরিশোধ করলেই কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।"
এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিমান চলাচল সংক্রান্ত সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।