
ডেস্ক প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের সড়কগুলোতে ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী অন্তত ১ হাজার ৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সড়ক ও পরিবহন খাতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন না মানার সংস্কৃতির কারণে এই মৃত্যুমিছিল দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ৯টি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৫৩৭ জন ছিল বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী অথবা চালক (কিশোর)। অন্যদিকে, ৪৭১ জন শিশু পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
সড়কের ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়:
আঞ্চলিক সড়ক: ৩৬৪ জন (সর্বোচ্চ মৃত্যু)
গ্রামীণ সড়ক: ২৯১ জন
মহাসড়ক: ২৮১ জন
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে নজরদারির অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বয়সের অনুপাতে কিশোরদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
১৩ থেকে ১৭ বছর: ৪৪৭ জন
৬ থেকে ১২ বছর: ৩৮২ জন
৫ বছরের কম: ১৭৯ জন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই এই অপূরণীয় ক্ষতির অন্যতম কারণ। এছাড়া শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার অভাব এবং গ্রামীণ অবকাঠামোতে ট্রাফিক সিগন্যাল বা নির্দেশনার অনুপস্থিতি দুর্ঘটনাকে উসকে দিচ্ছে।
এই সংকট নিরসনে সংস্থাটি বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে:
আইন প্রয়োগ: সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সচেতনতা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সরকারি তহবিল: দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে হলে এখনই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো অপরিহার্য।