শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে বাণিজ্য (ব্যবসায় শিক্ষা) বিভাগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পর চলতি বছরের ৫ মে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাওয়া এ অনুমোদনের ফলে বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা, তিনটি বিভাগেই পাঠদান চালু হলো। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও পাঠদান শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে বুধবার (১৫ জুলাই) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বিভাগ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, এতদিন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়তে হলে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হতো। এখন নিজ বিদ্যালয়েই সেই সুযোগ পাওয়ায় সময়, যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে শুরু থেকেই বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে পাঠদান চালু ছিল। ১৯৯০-এর দশকে তৎকালীন শিক্ষক মো. আব্দুল কাদের ও মো. ছোহরাব আলী হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করলেও সরকারিভাবে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন না থাকায় শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের স্বীকৃতি লাভের পাশাপাশি চলতি বছরের ৫ মে সরকারিভাবে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন পায়। তবে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে অনুমোদন পাওয়ায় এ বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি তুলনামূলক কম হয়েছে।
বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী (রিপন) এবং অপর একজন শিক্ষক বাণিজ্য বিভাগের পাঠদান পরিচালনা করছেন। তবে বিভাগটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বাণিজ্য বিভাগকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। এ বিষয়ে শিক্ষকের চাহিদাপত্র ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হবে।”
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা আলমগীর বলেন, “বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজের কাছে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। নতুন বিভাগের অনুমোদনের ফলে এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।”