
শেরপুর, বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার এরুলিয়ায় ফ্লাই হুইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত উদ্ভাবকেরা ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুটের বিপরীতে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়ার দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পরীক্ষামূলকভাবে এক ঘণ্টা মেশিন চালিয়ে ইনপুটের তুলনায় প্রায় ১০০ অ্যাম্পিয়ার বেশি আউটপুট পাওয়া গেছে। তবে এই ফলাফল বৃহৎ পরিসরে কতটা কার্যকর ও টেকসই, তা এখনো যাচাই হয়নি। প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করতে বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে রুরাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি (আরডিএ)।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় এক ঘণ্টা মেশিন চালানোর সময় ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুটের বিপরীতে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়া যায়। উদ্ভাবকদের হিসাবে, এতে প্রায় ১০০ অ্যাম্পিয়ার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। তবে শুধু অ্যাম্পিয়ার পরিমাপের ভিত্তিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রকৃত শক্তি বা প্রযুক্তিটির দক্ষতা নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ফ্লাই হুইল প্রযুক্তির মূল উদ্ভাবক মতিয়ার রহমান (বাদল) বলেন, ২০০৪ সালের দিকে কৌতূহল থেকে তিনি এ প্রযুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে তিনি ভারত ও চীনেও যান।
মতিয়ার রহমানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শুরুতে ডিজেল ইঞ্জিন বা সাপ্লাই লাইন থেকে মোটরের মাধ্যমে বাইরে থেকে তড়িৎ শক্তি সরবরাহ করে ফ্লাই হুইল ঘোরাতে হয়। মোটরের সাহায্যে ফ্লাই হুইলের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরকে ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০০ আরপিএমে নেওয়া হলে ফ্লাই হুইলে কাইনেটিক এনার্জি তৈরি হয়। পরে মোটর ও ফ্লাই হুইলের কাইনেটিক এনার্জিকে ২৫০ আরপিএমে রূপান্তর করে ওই গতির একটি জেনারেটর চালানোর কথা বলছেন তাঁরা।
উদ্ভাবকদের দাবি, প্রচলিত জেনারেটরগুলো ১ হাজার ৪৫০ আরপিএম পর্যন্ত না পৌঁছানো পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। তাঁদের তৈরি ব্যবস্থায় ২৫০ আরপিএম গতিতে জেনারেটর ঘুরিয়েও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
গবেষণায় যুক্ত পার্টনার উদ্ভাবক মিজানুর রহমান (শাহীন) বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এক ঘণ্টা মেশিন চালিয়ে ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুট দিয়ে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ১০০ অ্যাম্পিয়ার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরডিএর সঙ্গে গবেষণা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে বিগ চিকস ইনকিবিউটার এন্ড এগ্রি ইঞ্জিনিয়রের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, তাঁরা পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, আরডিএ প্রথম পর্যায়ে তাঁদের গবেষণাটি উপলব্ধি করে এ বিষয়ে গবেষণা করেছে এবং প্রযুক্তিটিকে টেকসই হিসেবে দেখেছে। প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে।
আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, এরুলিয়ায় ফ্লাই হুইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের যে গবেষণা চলছে, এর মূল উদ্যোক্তা শাহীন ও বাদল। তাঁরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এ নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৪ সালের দিকে আরডিএ এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, ফ্লাই হুইল প্রযুক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল দই তৈরি এবং মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ইনকিউবেটর নিয়েও তাঁদের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবনের কাজ হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে একটি সভার পর ফ্লাই হুইল প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে যাচাই করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফলে উদ্ভাবকদের পরীক্ষায় ৭৮ অ্যাম্পিয়ার ইনপুটের বিপরীতে ১৭৮ অ্যাম্পিয়ার আউটপুট পাওয়ার যে দাবি উঠেছে, সেটি বৃহৎ পরিসরের পরীক্ষায় কতটা পুনরাবৃত্তি করা যায় এবং পুরো ব্যবস্থায় মোট কত শক্তি খরচ ও উৎপাদন হচ্ছে, সেই হিসাবই প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।