# ৯৯ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ব্যালট পেপার, ভোট উৎসবের অপেক্ষায় শেরপুর

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a7%af%e0%a7%af-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8c%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/
- Published: 2026-02-11T22:58:48+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:**
 বুধবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামছে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার
পানিসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে তখন শেষ 
মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। টেবিলে সাজানো ব্যালট পেপার, নীল কালির দোয়াত, আর সুপারিশে
ঠাসা ফাইল। কক্ষের বাইরে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। প্রধান ফটকের সামনে বাড়তি 
নজরদারি, ভেতরে প্রবেশে কড়া শর্ত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুর উপজেলার ৯৯টি ভোটকেন্দ্রে এখন বিরাজ
করছে উৎসব আর নীরব তৎপরতার মিশ্র আবহ। পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নজুড়ে মোট ৫৬৪টি বুথে ভোট
গ্রহণ হবে আগামীকাল। এরই মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছে
গেছে ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনী উপকরণ।

পানিসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি এখন অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ
কক্ষ। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মনোয়ারা খাতুন জানালেন, এ কেন্দ্রে চারটি গ্রামের ২ হাজার
৪৬১ জন ভোটার রয়েছেন। “ভোর থেকে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বুথ সাজানো, সিসিটিভি ক্যামেরার
কার্যকারিতা পরীক্ষা— সবই করা হয়েছে,” বললেন তিনি।

একই চিত্র পেচুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও। প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের পাশাপাশি [আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। স্কুলের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষের সামনে বাড়তি পাহারা। কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা উপজেলা ভেড়া উ](http://৯৯ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ব্যালট পেপার, ভোট উৎসবের অপেক্ষায় শেরপুর)
ন্নয়ন খামারের ভেটেরিনারি সার্জন শাহিনুর রহমান জানান, এ কেন্দ্রে আটটি গ্রামের ৩ হাজার
৫৮৯ জন ভোটার রয়েছেন।

“ব্যালট পেপার সংরক্ষণ কক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরুর আগ
পর্যন্ত কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না,” জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের ভাষ্য, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের এ অংশে
সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং রুম থেকেই পর্যবেক্ষণ করা
হচ্ছে কেন্দ্রগুলোর অবস্থা। নিরাপত্তায় ইউনিয়নভিত্তিক থানা পুলিশের বিশেষ টিমও কাজ 
করছে।

![](https://dailybogratimes.com/wp-content/uploads/2026/02/WhatsApp-Image-2026-02-
11-at-7.15.42-PM-300x169.jpeg)

পেচুল গ্রামের গোলাম কিবরিয়া বললেন, “আগের নির্বাচনের চেয়ে এবার নিরাপত্তা অনেক বেশি।
বিকেলে উপকরণ আসার পর থেকেই কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারছে না।”

পানিসাড়া গ্রামের সন্তোষ সরকারের কণ্ঠেও একই সুর। তবে এই কড়াকড়িকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন
তিনি। “নিরাপত্তা যত কঠোর হবে, ভোট তত সুষ্ঠু হবে। এটাই তো চাই,” বললেন তিনি।

সন্ধ্যা নামছে। কেন্দ্রগুলোতে তখনও জ্বলছে আলো। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা শেষবারের মতো
বুথ ও ব্যালট পেপার মিলিয়ে দেখছেন। কাল ভোরেই ঘরে ঘরে জেগে উঠবে গণতন্ত্রের উৎসব। তার
আগে নীরব প্রহর।

শেরপুরের ভোটকেন্দ্রগুলো এখন শুধু অপেক্ষায়— ভোটারদের পদধ্বনির।
