bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

বাজারের ৭১% সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক |

দেশের বাজারে প্রাপ্ত ৭১ শতাংশ সবজিতেই সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত কীটনাশক পাওয়া গেছে। একই সাথে ভোজ্য তেলের নমুনায় মিলেছে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘ট্রান্স-ফ্যাট’। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে এমন অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করে প্রতি বছর দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ খাদ্যবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে তুলা উন্নয়ন ভবনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে এসব উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ সেফ এগ্রো ফুড ইফোর্টস (বিএসএএফই) আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের লিংক পরিচালক মাহমুদ হাসান।

ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র

মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, বাজারে শুধু ভেজালই নয়, বরং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, অনিরাপদ পণ্য এবং অনলাইন প্রতারণার অভিযোগও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে (ডিএনসিআরপি) গত বছর জমা পড়া ৮০ হাজারের বেশি অভিযোগ প্রমাণ করে যে, দেশে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গীকারের আহ্বান

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম বড় দায়িত্ব হওয়া উচিত। আগামী নির্বাচনে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ খাদ্যের অঙ্গীকার থাকতে হবে।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অনুপস্থিত থাকা দুঃখজনক।

রাসায়নিক সারের নির্ভরতা ও মাটির স্বাস্থ্য

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন, অধিক উৎপাদনের নেশায় কৃষকরা রাসায়নিক সারের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এর ফলে মাটি তার স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। জনস্বাস্থ্য ও কৃষি বাঁচাতে জৈব সার নির্ভর চাষাবাদে ফেরার বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।

সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশমালা:

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সেমিনারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়:

  • খাদ্য বাজারে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

  • গবেষণা ও প্রমাণের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন।

  • ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ ও দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা করা।

  • পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সংবেদনশীল কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করা।

  • ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি ও সব অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।

সেমিনারে কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। বক্তারা খাদ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারি সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন।