bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে বুদ্ধি খাটিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | 

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা যেকোনো সামরিক সংঘাতের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বুদ্ধিমানের মতো’ আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।

“আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত”
মার্কিন হুঁশিয়ারির জবাবে আব্বাস আরাগচি বলেন, “ওয়াশিংটন যদি আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়—যা তারা আগেও করেছে—তবে আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র হঠকারিতা না করে বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার পথ বেছে নেবে।”

ইসরায়েলের উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে তার ফল ভয়াবহ হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত বছরের জুনের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আরও বিশাল ও বিস্তৃত।

আন্দোলনের পেছনে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ ও বিদেশি মদত
ইরানে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাধারণ বিক্ষোভকারীদের মাঝে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ ঢুকে পড়েছে। তারাই মূলত নিরাপত্তাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করছে। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে এই অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে সরকারের পতন ঘটাতে চাচ্ছে।

খামেনির আপসহীন অবস্থান ও ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি
বিক্ষোভের মুখে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত। যারা একে ধ্বংস করতে চায়, তাদের সামনে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।”

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনায় চটেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি খামেনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে চড়া মূল্য দিতে হবে। তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলও এই আন্দোলনকে ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তেল আবিব বর্তমান সরকারকে উৎখাতে হামলার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে অগ্নিসংযোগ এবং জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনায় ইরান সরকার চরম কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত শত শত বিক্ষোভকারী এবং শতাধিক নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।