bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গরুর দুধ: জানুন উপকারিতা ও অপকারিতা

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গরুর দুধ। শৈশব থেকেই আমরা শুনে আসছি, দুধ খেলে হাড় মজবুত হয় এবং শরীর শক্তিশালী হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দু্ধকে নিয়ে নানা মতভেদ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর দুধে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অস্বস্তির কারণও হতে পারে। তাই এর উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা—উভয় দিকই জানা জরুরি।

পুষ্টিগুণ ও শারীরিক গঠনে ভূমিকা

গরুর দুধের প্রধান আকর্ষণ এর পুষ্টিগুণ। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, যা পেশি গঠন ও কোষ মেরামতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী বলে মত পুষ্টিবিদদের।

এছাড়া দুধ ক্যালসিয়ামের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত রাখে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। দুধে থাকা ভিটামিন ডি, বি১২, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্র সচল রাখতে, রক্তকণিকা উৎপাদনে এবং হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

হজমের সমস্যা ও ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স

অনেকের ক্ষেত্রেই দুধ হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এর মূল কারণ দুধে থাকা ‘ল্যাকটোজ’ নামক প্রাকৃতিক চিনি। যাদের শরীরে ‘ল্যাকটেজ’ এনজাইমের অভাব রয়েছে, তারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে ভুগতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে দুধ খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এমন সমস্যা থাকলে সম্পূর্ণরূপে দুধ এড়িয়ে না গিয়ে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ অথবা বিকল্প হিসেবে দই বা পনির বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ফারমেন্টেড বা গেঁজানো দুগ্ধজাত খাবার তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য।

হৃদরোগ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে দুধের ভূমিকা

দুধ ও হৃৎস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে আলোচনা চলছে। আগে মনে করা হতো, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে, পরিমিত পরিমাণে দুধ অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে যাঁদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্থূলতার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য স্কিমড বা লো-ফ্যাট দুধ পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও দুধের ভূমিকা ইতিবাচক বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফ্লেভার্ড মিল্ক বা কৃত্রিম স্বাদের দুধ এড়িয়ে চলাই ভালো।

বয়সভেদে সেবনবিধি

শিশুদের ক্ষেত্রে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর ধীরে ধীরে গরুর দুধ খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে বলে জানান শিশু বিশেষজ্ঞরা। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য মায়ের দুধই সর্বোত্তম। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধই যথেষ্ট, যদি কোনো শারীরিক বাধা না থাকে।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে দুধের প্রভাব

ত্বক ও চুলের যত্নেও দুধের উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত আছে। দুধে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল ত্বককে পুষ্টি জোগায়। যদিও সরাসরি দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়—এমন নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নতি ঘটায়।

গবেষকরা বলছেন, গরুর দুধকে ঢালাওভাবে ক্ষতিকর বা উপকারী বলা যায় না। ব্যক্তিভেদে এর সহনশীলতা ও প্রয়োজনীয়তা আলাদা। যাঁদের ল্যাকটোজ সমস্যা বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা নেই, তাদের জন্য পরিমিত দুধ একটি পুষ্টিকর খাদ্য। তবে অ্যালার্জি বা হজমে জটিলতা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।