bogra times cover image-1
ঢাকাWednesday , 1 April 2026

বদলে গেছে সেবার ধরণ: শেরপুরে গড় নামজারি নিষ্পত্তি সময় ১৬ দিন

এনাম হকঃ-
April 1, 2026 12:09 am
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু, নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং ভূমি কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে ফিরেছে কাজের গতি। একসময় খাজনা-খারিজের ধীরগতিতে জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যাহত হলেও বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে; দ্রুত হচ্ছে সব ধরনের সেবা।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো. মাহমুদুল হাসান ১৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে সাবেক ইউএনও আশিক খান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তির কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে অনেক আবেদন আটকে ছিল। এতে অফিসের দৈনন্দিন কাজেও ভাটা পড়ে।

বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন যারা জমি খারিজের জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। গড় নামজারি নিষ্পত্তির সময় নেমে এসেছে ১৬ দিনে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ৯ মাসে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে ১২ হাজার ৫১৬টি। যেখানে ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৮টি এবং গড় নিষ্পত্তির সময় ছিল ৫৩ দিন।

এ ছাড়া চলতি ৯ মাসে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। গত ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। একই সময়ে মিসকেস নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫৭টি, যা আগের বছরে ছিল ৪৩৮টি।

নামজারি, ভূমি কর আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, হাট-বাজার ইজারা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজ নবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোতে গতি এসেছে। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ভূমি সেবাকে আরও সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ভূ গত জানুয়ারি মাসে ১০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১৭টি মামলায় ৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বদলে গেছে সেবার ধরণ: শেরপুরে গড় নামজারি নিষ্পত্তি সময় ১৬ দিন

৩১ মার্চ সেবা নিতে এসে মির্জাপুর এলাকার শাহিন বলেন, খারিজ আবেদনে একটি ভুল সংশোধনের জন্য তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গেলে ২-৩ মিনিটের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়। “সরকারি অফিসে এমন দ্রুত সেবা পেয়ে আমি অভিভূত,” বলেন তিনি।

পৌর শহরের নাসরিন আক্তার পুটি বলেন, “বর্তমান কর্মকর্তার কাজের গতি ও সেবার মান আগের তুলনায় অনেক বেশি ভালো। তিনি কাজ দিয়ে সবার কাছে উদাহরণ তৈরি করছেন।”

সুঘাট এলাকা থেকে আসা এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ নামজারি করতে এসে কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছি না। কৃষকসহ সবাইকে সমানভাবে সেবা দেওয়া হচ্ছে।” তবে তিনি স্থানীয় ভূমি অফিসে একজন পূর্ণাঙ্গ ভূমি সহকারী (নায়েব) নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ভূমি অফিস নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রতিটি আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন। “আমার কাছে একটি ফাইল অফিসিয়াল কাজ হলেও কারও কাছে এটি তার জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা সম্পত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দ্রুত সেবা দিতে অনেক সময় অফিস সময়ের বাইরে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, উচ্ছেদ অভিযান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

উপজেলার রানীরহাট এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া একটি সরকারি খাল উদ্ধার করে সেখানে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ হাট-বাজার উচ্ছেদ, খাসজমি বন্দোবস্ত ও ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, “মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসা থাকলে এই কাজগুলো আরও সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

error: Content is protected !!