bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৬

সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার সেরা কৌশল

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ৯:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক |

কথায় আছে, “আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী।” কিন্তু বর্তমান কর্পোরেট ও পেশাদার বিশ্বে এই প্রবাদের কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখনকার সময়ে আপনার বাহ্যিক অবয়বের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আপনার বাচনভঙ্গি বা কথা বলার শৈলী। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের মতে, যারা প্রাঞ্জল ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কথা বলতে পারেন, ক্যারিয়ারে তাদের সাফল্যের গ্রাফ অন্যদের চেয়ে অনেক দ্রুত ওপরের দিকে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক ও বিজনেস কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ সাইফ নোমান খান জানান, কথা বলা একটি শিল্প এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে যে কেউ এই শিল্পে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন।

শরীরের ভাষাই যখন কথা বলে

সুন্দর করে কথা বলা মানে শুধু শব্দের সঠিক চয়ন নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আপনার শরীরী ভাষা বা Body Language। কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে (Eye Contact) কথা বলা আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়। হাত নাড়ানো, ঘাড়ের ভঙ্গি বা মুখের অভিব্যক্তি যেন শ্রোতার কাছে বিরক্তির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টানা পাঁচ সপ্তাহ নিজের অঙ্গভঙ্গি পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন করা।

আঞ্চলিকতা ও উচ্চারণের পরিশীলন

পেশাদার ক্ষেত্রে শুদ্ধ উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি। বাংলা বলার সময় আঞ্চলিক টানের আধিক্য অনেক ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ন করে। সচেতন প্রচেষ্টায় ছয় থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে আঞ্চলিকতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। পাশাপাশি ইংরেজি বলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এক্সেন্ট (ব্রিটিশ বা আমেরিকান) অনুসরণ করা এবং সঠিক স্থানে বিরতি (Pause) দেওয়া শিখতে হবে।

শ্রোতাকে বুঝুন, নিজেকে গুছিয়ে নিন

আপনি কী বলছেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রোতা কী বুঝছেন। কথা শুরুর আগে মনে মনে বা কাগজে একটি ছক তৈরি করে নিন। প্রথম মিনিটে ভূমিকা, দ্বিতীয় মিনিটে মূল আলোচনা এবং শেষে একটি সুন্দর উপসংহার—এভাবেই সাজাতে হবে আপনার বক্তব্য। অতিরিক্ত দ্রুত কথা বলা পরিহার করতে নিজের কথা রেকর্ড করে শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এলিভেটর পিচ: অল্প সময়ে বাজিমাত

ধরুন, একজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে লিফটে আপনার দেখা হলো। হাতে সময় মাত্র ৩০ সেকেন্ড। এই অল্প সময়ে নিজের আইডিয়া উপস্থাপন করাই হলো ‘এলিভেটর পিচ’। এখানে সমস্যার চেয়ে সমাধানের ওপর জোর দিন। জটিল বাক্য এড়িয়ে সহজ ও সাবলীল শব্দ ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, পাণ্ডিত্য জাহির করা নয়, বরং কার্যকর যোগাযোগই আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

পড়াশোনা ও নিরন্তর চর্চা

একজন ভালো বক্তা হওয়ার পূর্বশর্ত হলো একজন ভালো পাঠক হওয়া। ফিকশন বা নন-ফিকশন—সব ধরনের বই আপনার শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে। এছাড়া সুন্দর করে কথা বলার কৌশল শিখতে TED Talks, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ বা ব্লুমবার্গের ভিডিওগুলো দেখা যেতে পারে। বর্তমানে অনলাইনে কোর্সেরা বা ইউডেমির মতো প্ল্যাটফর্মেও কমিউনিকেশন স্কিলের ওপর চমৎকার সব কোর্স পাওয়া যায়।

শেষ কথা

সুন্দর কথা বলা রাতারাতি শেখার কোনো বিষয় নয়। নিজেকে পরিবর্তনের জন্য অন্তত ৪-৫ মাস সময় দিন। অন্যের গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করুন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিন। মনে রাখবেন, সুন্দর করে কথা বলার পেছনে আপনার আজকের বিনিয়োগ সারাজীবনের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।