bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

স্টারলিংক কিলার: চীনের এইচপিএম অস্ত্র যা মুহূর্তে বিকল করে দেবে হাজারো স্যাটেলাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রযুক্তির রাজা মানেই চীন—এই ধারণা আরও একবার প্রমাণ করল বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে এককভাবেই টেক্কা দিয়ে প্রযুক্তি খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে তারা। এবার এক নতুন হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ (এইচপিএম) অস্ত্র আবিষ্কার করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে চীনা বিজ্ঞানীরা।

‘স্টারলিংক কিলার’: ধ্বংস নয়, বিকল করার প্রযুক্তি

চীনা গবেষকদের তৈরি এই অস্ত্রটি ‘স্টারলিংক কিলার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকেই পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা কয়েক হাজার স্যাটেলাইট বা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মুহূর্তের মধ্যে বিকল করে দিতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হলো, এটি কোনো বস্তুকে সরাসরি আঘাত করে ধ্বংস না করে শক্তিশালী তরঙ্গের মাধ্যমে সেটির ভেতরের ইলেকট্রনিক সিস্টেম পুড়িয়ে দেয়।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা

চীনের তৈরি এই অস্ত্রটি বেশ কিছু অভিনব প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ:

  • শক্তি উৎপাদন: ট্রাক বা জাহাজে বহনযোগ্য এই ক্ষুদ্রাকৃতির অস্ত্রটি টানা ৬০ সেকেন্ড ধরে ২০ গিগাওয়াট পর্যন্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে, যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হতো।

  • টিপিজি সিএস (টিপিজি-সিএস) ডিভাইস: এই ডিভাইসটির ওজন মাত্র ৫ টন এবং দৈর্ঘ্য ৪ মিটারের মতো। এটি ট্রাক, জাহাজ, বিমান এমনকি মহাকাশেও মোতায়েন সম্ভব।

  • পালস সক্ষমতা: নতুন এই সিস্টেমটি এক দফায় ৩ হাজারটি হাই এনার্জি পালস দিতে পারে, যা অত্যন্ত স্থিতিশীল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ গিগাওয়াটের বেশি শক্তি মহাকাশের নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইটগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

স্টারলিংক স্যাটেলাইটের ওপর প্রভাব

স্পেসএক্স-এর স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো এখন আগের চেয়ে নিচে অবস্থান করায় এগুলো চীনের এই অস্ত্রের নাগালে চলে এসেছে। এই অস্ত্রটি স্যাটেলাইটের অ্যান্টেনা, তার এবং অন্যান্য ফাঁকফোকর দিয়ে শক্তিশালী রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শক্তি প্রবেশ করায়, যা উচ্চ ভোল্টেজের মাধ্যমে ভেতরের যন্ত্রাংশ পুড়িয়ে ফেলে।

তাইওয়ান ইস্যু ও সামরিক কৌশল

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান শুরু করলে চীন এই এইচপিএম অস্ত্রকে প্রথম সারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। এটি তাইওয়ানের কমান্ড সেন্টার, রাডার স্টেশন, মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিমেষেই অচল করে দিতে পারে। ফলে কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরুর আগেই তাইওয়ানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়বে।

চীনের বর্তমান সামরিক কৌশল হলো শত্রুর যন্ত্রপাতির বদলে তাদের পুরো সিস্টেম ধ্বংস করে দেওয়া। এটি এক ধরনের ‘সিস্টেম ডেস্ট্রাকশন ওয়ারফেয়ার’, যেখানে শত্রুর স্নায়ু বা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিকল করে তাদের লড়াই করার মানসিকতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তুতি

চীনের এই অস্ত্র সামনে আসতেই এর হুমকি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

  • কোয়ান্টাম সেন্সিং: তারা এখন কোয়ান্টাম সেন্সিং প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে, যা জিপিএস বা বাহ্যিক সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে না। ফলে মাইক্রোওয়েভ বা জ্যামিং দিয়ে একে অচল করা কঠিন।

  • বিকল্প নেটওয়ার্ক: মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস হলেও পুরো নেটওয়ার্ক সচল থাকে।

গবেষকদের মতে, সরাসরি মিসাইল ছুড়ে স্যাটেলাইট ধ্বংস করার চেয়ে মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর এবং এটি যুদ্ধের উত্তেজনা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।