bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পররাষ্ট্রনীতি: বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই প্রথম- তারেক রহমান

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১১:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপির হয়ে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই দলকে বিপুল বিজয় এনে দেওয়ায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রনীতি: সবার সঙ্গে সম্পর্ক, মেনে চলবে বহুপক্ষীয় নীতি

বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখেই আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নির্ধারণ করব।”

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিএনপি বহুপাক্ষিকতার নীতি অনুসরণ করে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ করি না। আমাদের নীতি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।”

ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ক কেমন হবে—এমন প্রশ্নে পুনরায় আমীর খসরুকে ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ জানান তারেক রহমান। আমীর খসরু বলেন, “দেশের স্বার্থ ঠিক রেখেই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে।”

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনা বন্ধুরা জড়িত আছেন। আমরা আশা করি, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশ আরও নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করবে। তবে অবশ্যই আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সকল দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ব। পারস্পরিক স্বার্থই হবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

নির্বাচনে বিপুল জয়: ‘জনগণকে বোঝানোই ছিল আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং’

গত সরকার পতনের পর থেকে তিনি নির্বাচনকে ‘সহজ হবে না’ বলে মন্তব্য করে এলেও এখন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে—এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। সেই সঙ্গে তাকে কি দুইশ’র বেশি আসন পেতে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে হয়েছে কিনা জানতে চান এক সাংবাদিক।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা—সেটাই ছিল আমাদের মূল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আলহামদুলিল্লাহ আমরা সেখানে সফল হয়েছি। আর জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই ছিল আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেকোনো ভালো কাজের গোল অ্যাচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, এটা কঠিন হবেই।”

সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ কী—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের কাছে কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো হলো—অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনি জানেন, গত সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিল। আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এই বিষয়গুলোই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং এগুলো আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।”

অর্থনীতি সচল করার কৌশল প্রসঙ্গে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমরা আরও ব্যবসা আনতে চাই এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।”

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধে করণীয় সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি আইন সবার জন্য সমান। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসে আমরা ইনশাল্লাহ চেষ্টা করব, আইন যেন আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের অবস্থান।”

আইসিটি ও বিচার বিভাগ: সম্পূর্ণ পৃথক করব

আইসিটি আইন প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটা বিচার বিভাগের বিষয়। আমরা অবশ্যই বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক দেখতে চাই।”

যুবক, নারী ও অন্যান্য শ্রেণির জন্য পরিকল্পনা

যুবকদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান দলের ইশতেহারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। যুবকদের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষও আছেন। আমরা সকলের বিষয় নিয়েই ভাবছি। ইতিমধ্যে আমরা দলের ইশতেহার প্রকাশ করেছি, সেখানে যুবক, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সকলের জন্য আমাদের পরিকল্পনা বিস্তারিত উল্লেখ আছে।”

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ

বিগত সরকারের আমলে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনি আমাদের ইশতেহার দেখলে এর জবাব পাবেন। আমরা গণতান্ত্রিক অর্থনীতির কথা বলেছি, যেখানে সবাই নিজ নিজ যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, “এটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।”

সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনি জানেন, সার্ক গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। আমরা স্বাভাবিকভাবেই সার্ককে সক্রিয় করতে চাই এবং এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে উপস্থিত ছিলেন।