bogra times
ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইসলামিক দর্শনে ‘অহংকার’ একটি মারাত্মক চারিত্রিক ব্যাধি

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে অহংকারের ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে একটি চমৎকার প্রবন্ধ বা সংবাদ নিবন্ধ নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:ইসলামে অহংকার: ধ্বংসের পথে এক আত্মঘাতী ব্যাধিধর্ম ডেস্ক: মানুষের নৈতিক পতন ও আধ্যাত্মিক ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘অহংকার’। ইসলামি শরিয়তে অহংকার কেবল একটি অপছন্দনীয় অভ্যাস নয়, বরং এটি একটি কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে অহংকারীদের জন্য কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের আলোকে অহংকারমহান আল্লাহ তায়ালা দম্ভ ও অহংকারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। সুরা বনি ইসরায়েলে আল্লাহ বলেন:“তুমি পৃথিবীতে অহংকার করে চলো না। নিশ্চয়ই তুমি জমিনকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং পাহাড়ের উচ্চতায়ও পৌঁছতে পারবে না।” (আয়াত: ৩৭)অন্যত্র সুরা লোকমানে ইরশাদ হয়েছে, “অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে দম্ভভরে বিচরণ করো না; কারণ আল্লাহ কোনো অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” (আয়াত: ১৮)অহংকারের স্বরূপ ও সংজ্ঞাঅনেকে মনে করেন ভালো পোশাক বা সুন্দর জুতা পরা বোধহয় অহংকার। কিন্তু রাসুল (সা.) এই ধারণা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন:অহংকার কী: হক বা সত্যকে অবজ্ঞা করে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে হীন বা তুচ্ছ মনে করা।সৌন্দর্য বনাম অহংকার: আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। তাই পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরা অহংকার নয়, বরং মনে অন্যকে ছোট করা ও সত্যকে অমান্য করাই হলো আসল অহংকার।জাহান্নামের পথ: হাদিসের সতর্কতাঅহংকারের পরিণাম সম্পর্কে রাসুল (সা.) অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন:

১. জান্নাতে প্রবেশে বাধা: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ বা সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

২. জাহান্নামের নিকৃষ্ট পানীয়: কেয়ামতের দিন অহংকারীদের পিপীলিকার ন্যায় ছোট আকৃতিতে লাঞ্ছিত অবস্থায় হাশরে তোলা হবে এবং তাদের জাহান্নামিদের দেহ থেকে নিংড়ানো কদর্য পুঁজ-রক্ত (তিনাতুল খাবাল) পান করানো হবে।

৩. আল্লাহর গুণাবলির অপব্যবহার: এক হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, “অহংকার আমার চাদর আর আত্মম্ভরিতা আমার লুঙ্গি। যে এই দুটির কোনো একটি নিয়ে টানাটানি করবে (অর্থাৎ অহংকার করবে), আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।”

মুক্তির ও ধ্বংসের ৩টি পথহজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে তিনটি মুক্তিদানকারী ও তিনটি ধ্বংসসাধনকারী গুণের কথা বলা হয়েছে:মুক্তির পথধ্বংসের পথপ্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করাপ্রবৃত্তির অন্ধ অনুসরণ করাসব অবস্থায় সত্য কথা বলালোভ-লালসা বা কৃপণতাসচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় মধ্যপন্থা অবলম্বনআত্ম-অহমিকায় লিপ্ত হওয়াউপসংহারমানুষ হিসেবে আমরা কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। কোনো না কোনো প্রয়োজনে আমাদের অন্যের ওপর নির্ভর করতেই হয়। সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্রের যে ভেদাভেদ আমরা দেখি, তা মূলত আল্লাহরই সৃষ্টি। তাই মাটির তৈরি মানুষের পক্ষে দম্ভ প্রকাশ করা সাজে না। পরকালে মুক্তি ও জান্নাত লাভের জন্য আমাদের অন্তরকে অহংকারের কালিমা থেকে পবিত্র রাখা অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আত্মঘাতী ব্যাধি থেকে রক্ষা করুন।

লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক