bogra times cover image-1
ঢাকাশনিবার , ১৩ জুন ২০২৬

মেগা প্রকল্পে রেলপথ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর: বদলে যাওয়ার অপেক্ষায় বগুড়া

বগুড়া প্রতিনিধিঃ-
জুন ১৩, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়া প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বগুড়ার কেন্দ্রীয় বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে।

শুক্রবার সকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি বগুড়ার যোগাযোগ, শিক্ষা, নগর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এআইডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বগুড়া শহরের যানজট কমাতে নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী রানীরহাট থেকে আসা রেললাইন শহরের ভেতর দিয়ে উড়ালপথে নিয়ে গিয়ে গাবতলী পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এতে শহরে কোনো রেলক্রসিং থাকবে না এবং নিচের অংশ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বগুড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বিভিন্ন চত্বর সংস্কারের কাজ নবগঠিত সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। বিদ্যমান অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও নগর চলাচল আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন চাকরির সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক তরুণ হতাশার মধ্যে পড়েছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় পাঁচ লাখ শূন্যপদ রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাদক সমস্যার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বগুড়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নাম হতে পারে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’। এতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা অনুষদও থাকবে। দেশি-বিদেশি গবেষকদের জন্য গবেষণার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত আইন মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপিত হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়া বিমানবন্দরকে সাধারণ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নয়, বরং আধুনিক ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গাবতলীতে চার লেনের বাইপাস সড়ক নির্মাণ, চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ এবং মোকামতলা-হিলি সড়ক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নয়নের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডেকোরেশন, সড়ক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।

বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।