bogra times
ঢাকাবুধবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক | 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি প্রস্তাবিত চারটি বিষয়ের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। আইন অমান্য করে কোনো পক্ষ নিলে বা নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ এবং গণভোট অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দণ্ড

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আরপিও-১৯৭২ এর ৮৬ অনুচ্ছেদ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

  • শাস্তি: কোনো কর্মকর্তা পদের অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তিনি ১ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

  • কমিশনের বক্তব্য: কমিশনার মাছউদ জানান, “আইন অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো পক্ষেই কথা বলতে পারবেন না। এটি একেবারেই নিষেধ।”

উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের পার্থক্য

উপদেষ্টাদের প্রচারণার বিষয়ে কমিশনার মাছউদ ব্যাখ্যা দেন যে, উপদেষ্টারা ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ হলেও তারা ‘গভর্নমেন্ট সার্ভেন্ট’ বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নন। তাই তারা নীতিগতভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা যারা সরাসরি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, তাদের জন্য এই সুযোগ নেই।

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা

ভিন্নমত ও বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানের বিপরীতে সরকারের ভেতর থেকে ভিন্ন মতও পাওয়া গেছে।

  • অধ্যাপক আলী রীয়াজ: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ দাবি করেছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না—এমন কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের বহু দেশে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায়।

  • বিশেষজ্ঞ মতামত: সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, উপদেষ্টারাও প্রজাতন্ত্রের অংশ, তাই তাদের পক্ষ নেওয়া আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, গণভোটের প্রচারণার বিষয়টি আইনেই আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল।

যে ৪টি বিষয়ে গণভোট হচ্ছে

ভোটারদের ব্যালটে একটিমাত্র প্রশ্নের বিপরীতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিষয়গুলো হলো:

  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন প্রক্রিয়া।

  2. দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন।

  3. জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব (প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইত্যাদি) বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা।

  4. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য রাজনৈতিক সংস্কার।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, কর্মকর্তাদের কাজ কেবল ভোটারদের সচেতন করা এবং ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা, কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ অবলম্বন করা নয়।