bogra times cover image-1
ঢাকাSaturday , 19 September 2026

চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি: শফিকুর রহমান

Link Copied!

বগুড়া প্রতিনিধি:

সরকার এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বললেও তাদের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সারের দাম বেড়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। এসব সংকটের সমাধান না করে সরকারের নানা বক্তব্য জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।

আজ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়া মহানগরের মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার বলেছিল দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে এবং এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে। কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের পরিবর্তে এর পরিমাণ বেড়েছে।

সরকারের বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও চরমে। বিদ্যুতের ঘাটতি নিয়ে একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই, তার লম্বা হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়—এমন কথা বলা লজ্জার।

জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকার জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এবং ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি না মানলে এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে। আট দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি না মানলে এক দফার আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছে। সরকার ও তাঁরাও গণভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে গণভোটের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করা হলেও জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নতুন সংবিধানে লিখিত পরীক্ষার চেয়ে ভাইভার নম্বর দ্বিগুণ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনে চাকরির অধিকারের জন্য তরুণেরা জীবন দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে তাঁরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর মৃত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা সন্তানদের নিরাপত্তা চান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।

লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, এবারের লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। পরবর্তী লংমার্চ পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে হবে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পরোয়া তাঁরা করেন না। জনগণের অধিকার আদায় না করে তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও অভ্যর্থনা শেষে বহরটি বিকেলে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান। পথসভাটি পরে বড় সমাবেশে রূপ নেয়। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতা-কর্মীরা লংমার্চে যুক্ত হন।

এর আগে লংমার্চটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনা এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানান। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

error: Content is protected !!