bogra times
ঢাকাবুধবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনে চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১৯৭৬ প্রার্থী, ৫০ আসনে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক | 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে পাবনার দুটি আসন বাদে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৭ জনে। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন, যার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা।

মনোনয়ন ও প্রার্থিতার পরিসংখ্যান

ইসি সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাই প্রক্রিয়ায় ৭২৬ জনের নাম বাদ পড়লে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫৮ জনে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব মিলিয়ে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮৯ জনে দাঁড়ালেও গতকাল শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চিত্র

নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিলেও অন্তত ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও পটুয়াখালী-৩ আসনে হাসান মামুন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মীর শরাফত আলী সপু এবং গাজীপুর-২ আসনে মো. সালাউদ্দিন সরকারের মতো প্রার্থীরা লড়াইয়ে থেকে গেছেন।

অন্যদিকে, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে ঢাকা-১৭ আসনে ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একইভাবে জয়পুরহাট-২ আসনে সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নাছির উদ্দীন হাজারী দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন।

জোটের সমীকরণ ও আসন ভাগাভাগি

বিএনপি জোট: বিএনপি নিজেদের জন্য ২৯২টি আসন রেখে বাকি ৮টি আসন শরিকদের (জমিয়তে উলামা, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ) ছেড়ে দিয়েছিল। তবে আইনি জটিলতা ও মনোনয়ন বাতিলের কারণে বর্তমানে ২৯০টি আসনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক থাকছে। কুমিল্লা-৪ ও চট্টগ্রাম-২ আসনে বর্তমানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

জামায়াত ও ১০ দলীয় জোট: জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট ২৯৯টি আসনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে। জোটের সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াত ২২০টি আসনে এবং বাকি ৭৯টি আসনে এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে সমর্থন দিয়ে সেখানে কোনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত জোট।

নাটকীয়তা ও বাধা

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়াতে চাইলেও কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। সুনামগঞ্জ-১, মৌলভীবাজার-৩ এবং নরসিংদী-২ আসনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা প্রার্থীদের বাড়ি বা কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন যাতে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে না পারেন। সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর শেষ মুহূর্তে মাঠ ছেড়ে দেওয়া তারা মেনে নেবেন না।

প্রচারণার শুরু আজ

আজ বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও আইনি লড়াই শেষে প্রার্থীরা এখন রাজপথের লড়াইয়ে নামছেন। ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।