bogra times
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

ভোট ঘনালেও গণভোটে পরিষ্কার নন শেরপুরের গ্রামাঞ্চলের ভোটাররা

এনাম হকঃ-
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬ ৭:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখনো স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি। ভোটের তারিখ ঘনিয়ে এলেও অনেক ভোটার জানেন না, গণভোটে কী বিষয়ে তাদের মতামত দিতে হবে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, সংসদ নির্বাচনের প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট বিষয়ে আলাদা কোনো প্রচার চোখে পড়ছে না। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

মির্জাপুর, বিশালপুর, ভবানিপুর ও কুসুম্বি ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই শুধু শুনেছেন ‘হ্যাঁ–না ভোট’ হবে। তবে কেন এই ভোট, কী বিষয়ে ভোট দিতে হবে এবং এর ফলাফলের গুরুত্ব কী—এসব বিষয়ে তারা অবগত নন।

বিশালপুর ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন,
“ভোটের দিন কখন, সেটা জানি। কিন্তু গণভোটে কী করতে হবে, তা কেউ বুঝিয়ে বলেনি।”

কুসুম্বি ইউনিয়নের এক বৃদ্ধ ভোটার বলেন,
“সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেব, সেটা জানি। কিন্তু গণভোটটা কোন কাজে লাগবে, বুঝি না।”

স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণভোট নিয়ে কিছু আলোচনা দেখলেও সেখানে তথ্য অনেক সময় অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর থাকে। ফলে তারা নিজেরাও পুরো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিং থাকলেও গ্রাম পর্যায়ে সে কার্যক্রম সীমিত। এতে করে নারী ভোটার ও বয়স্কদের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও তথ্য প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটারদের যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না থাকে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে আরও প্রচারণা জোরদার করা হবে।

ভোট ঘনালেও গণভোটে পরিষ্কার নন শেরপুরের গ্রামাঞ্চলের ভোটাররা

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণভোটে ভোটারদের সামনে একটি মাত্র প্রশ্ন থাকবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তারা সমর্থন দেন কি না—সে বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে। এই প্রশ্নের সঙ্গে চারটি বিষয় সংযুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন প্রক্রিয়া, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, উচ্চকক্ষ গঠন এবং রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটি ভোটই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, গণভোট ঘিরে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ গণভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।