bogra times
ঢাকাবুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) বিলুপ্ত না করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাহিনীর পোশাকেও পরিবর্তন আসবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) টি এইচ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার বাহিনীটি ভেঙে না দিয়ে নাম পরিবর্তনের পথ বেছে নিল।

র‌্যাবের গঠন ও বিতর্ক

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে, জঙ্গিবাদ মোকাবেলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান।

গঠনের পর থেকেই ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠতে শুরু করে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। বিএনপির পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এ ধরনের অভিযোগের ধারাবাহিকতা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার র‌্যাব ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও পরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি তুলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে র‌্যাবের তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) একটি প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তির পাশাপাশি বিজিবি ও ডিজিএফআইয়ের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করে।

সেই সব আন্তর্জাতিক আহ্বান ও চাপ উপেক্ষা করেই র‌্যাব গঠনের ২২ বছর পর প্রধান উপদেষ্টা নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল।