bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা বলয়ে আসন্ন নির্বাচন, মাঠে থাকবে ৯ লাখ সদস্যে

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক নিউজ : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সারা দেশের ৪৩ হাজার ৭০০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রকে ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব কেন্দ্রে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, প্রভাব বিস্তার বা নাশকতার আশঙ্কার কথা বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় ১০০টি আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে ৮৪টি, পটুয়াখালীতে ৮০টি, কুষ্টিয়ায় ৭২টি এবং ঢাকায় ৭০টি কেন্দ্র। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী, শিল্পাঞ্চল, জনবহুল ও দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে।

৯ লাখ সদস্যের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন

এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আট বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পুলিশ: ১ লাখ ৮৭ হাজার সদস্য

  • সেনাবাহিনী: ১ লাখ সদস্য

  • বিজিবি: ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য

  • আনসার: ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ সদস্য

  • র্যাব: ৭ হাজার ৭০০ সদস্য

  • নৌবাহিনী: ৫ হাজার সদস্য

  • বিমান বাহিনী: ৩ হাজার ৭৩০ সদস্য

  • কোস্ট গার্ড: ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য

প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে গড়ে ১৩ জন আনসার সদস্য পাহারায় থাকবেন, এবং দু’জন সদস্য নিরাপত্তা অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান করবেন।

রাজধানীতে ২৫ হাজার পুলিশ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, রাজধানীর ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্রকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রযুক্তির ব্যবহার: বডিক্যাম ও ড্রোন

এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়াতে অভিনব প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে:

  • বডি ওর্ন ক্যামেরা: সারা দেশে ২৫ হাজার ৫০০টি বডিক্যাম ব্যবহার করা হবে, যার মধ্যে ১৫ হাজার অনলাইন এবং ১০ হাজার অফলাইন মোডে থাকবে। এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারে লাইভ ফুটেজ মনিটরিং করা যাবে।

  • ড্রোন: আকাশপথে নজরদারির জন্য ১ হাজার ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।

  • সাইবার মনিটরিং: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক কন্টেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে বিশেষ টিম কাজ করছে।

ব্যালট সরঞ্জামের নিরাপত্তা

ব্যালট বাক্স, কাগজ ও অন্যান্য নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহন ও সংরক্ষণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরঞ্জাম পাঠানো থেকে শুরু করে কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সশস্ত্র পাহারা ও বিকল্প রুটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গুদামগুলোতে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কাঠামো

নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের আগের চারদিন ও পরের দুদিন—মোট টানা সাতদিন সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। লক্ষ্য হচ্ছে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা অটুট রাখা।

এনিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”