bogra times cover image-1
ঢাকাThursday , 26 February 2026

দিনরাত মাটি পরিবহনে বিপর্যস্ত শেরপুর, ৫ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, ধসে কালভার্ট

Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
আবাদি জমিতে চলছে পুকুর খনন, আর সেই মাটি বহনে দিনরাত ছুটছে ড্রাম ট্রাক ও ট্রলি। টানা প্রায় দুই মাস ধরে এমন কার্যক্রমে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়ছে, কালভার্ট ধসে গেছে, দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তিন গ্রামের মানুষের জীবন। ঘটনাটি ঘটছে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খোট্টাপাড়া গ্রামে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বেলাল পুকুর এলাকায় দেখা যায়, দুটি এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। খনন করা মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে সাতটি ড্রাম ট্রাক ও চারটি ট্রলি। ভারী যানবাহনের চাপেই একটি কালভার্ট ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধুবাড়ি পাকার মাথা থেকে ঘোলাগাড়ির শেষ প্রান্ত পেংরা পাড়া (কদি মুকুন্দ) পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া খোট্টাপাড়া গ্রামের ভেতরের এক কিলোমিটার ইটবিছানো সড়ক প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপর ইট ছিল, তা বোঝারও উপায় নেই এখন। দুই পাশের কৃষিজমির পানি চলাচলের একমাত্র কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

অভিযোগ রয়েছে, খোট্টাপাড়া এলাকা থেকে দিনে-রাতে প্রায় ২০ বিঘা জমির মাটি কেটে আশপাশের এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মির্জাপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাটি বিক্রি চলছে বলে জানান এলাকাবাসী। এতে সাধুবাড়ি পাকার মাথা থেকে ঘোলাগাড়ি ঘুটু বটতলা হয়ে পেংরা পাড়া (কদিমুকুন্দ) পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ঘুটু বটতলা থেকে উচরং পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পাকা সড়কও ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও কার্যত খনন বন্ধ হচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে কাজের তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুলতান মিলন জানান, স্থানীয় মাসুদ প্রায় দুই মাস ধরে পুকুরটি খনন করছেন। আগে সেখানে আট বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ছিল, সেটিরই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কাজ শুরুর দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি এস্কেভেটরের ব্যাটারি জব্দ করেছিলেন। কিন্তু এরপরও খনন কার্যক্রম থামেনি।

গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, “দিনে-রাতে ড্রাম ট্রাক ও হ্যারো চলাচল করছে। এতে ইটের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কালভার্টও ভেঙে গেছে।”

আঞ্জুয়ারা বেগম ও এমিলি খাতুন জানান, ট্রাকের শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না তারা।

মো. ফজলু হক বলেন, “ট্রাক চলাচলে রাস্তাগুলো শেষ হয়ে গেছে। জমির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটিও ভেঙে গেছে। বর্ষায় বড় সমস্যায় পড়ব।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, অবৈধ খনন ও সড়ক নষ্টের অভিযোগে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন। তবে থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেন। পরে ভয়ে আর এগোননি তিনি।

ঘোলাগাড়ী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাদের চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটি ভারী ট্রাক ও বড় ট্রলির চাপে নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাক চলাচলে বাধা দিলে প্রভাবশালী মহলের চাপে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পুকুর খননকারী মাসুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ বলেন, কৃষিজমিতে পুকুর খনন এবং গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঘটনাটি তদন্তে মির্জাপুর ইউনিয়নের উপ-ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

error: Content is protected !!