bogra times cover image-1
ঢাকাMonday , 2 February 2026

মা ভবানী মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমার স্নানোৎসব

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর (বগুড়া) |

ভোরের কুয়াশাভেজা আলোয় শাঁখা পুকুরের শীতল জলে যখন প্রথম ডুবটি দিলেন ভক্তরা, তখন চারদিকে কেবলই ‘মা’ নামের জয়ধ্বনি। মনের কালিমা মুছে ফেলে আত্মশুদ্ধির এক অলৌকিক আকাঙ্ক্ষায় বগুড়ার শেরপুরে উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিপীঠ মা ভবানী মন্দিরে ঢল নেমেছিল হাজারো মানুষের। রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে এই পুণ্যভূমি পরিণত হয়েছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক বিশাল মিলনমেলায়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মাঘী পূর্ণিমার এই পুণ্যতিথিতে মা ভবানীর মন্দিরে শাঁখা পুকুরে স্নান করলে জীবনের অতীত পাপ মোচন হয় এবং পরম পুণ্য অর্জিত হয়। সেই অমোঘ টানেই দেশের ৫৪টি জেলা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকেও ছুটে এসেছেন অগণিত ভক্ত।

শনিবার রাত থেকেই মন্দিরের অতিথিশালা ও আশপাশের জনপদ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। রবিবার সকাল গড়াতেই অর্ধলক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের কলকাকলিতে মুখরিত শাঁখা পুকুর পাড়ে চলে পবিত্র স্নান। এরপর চলে মন্দিরে রাখা প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা, ভোগদান ও অর্ঘ্য অর্পণ।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য নিমাই ঘোষ জানান, ৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এটি ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। যুগ যুগ ধরে মাঘী পূর্ণিমার এই তিথিটি এখানে পরম শ্রদ্ধায় পালিত হয়ে আসছে।

মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীদের কণ্ঠেও ছিল সেই ভক্তির সুর। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে আসা করুণা রানী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,

“মায়ের আশীর্বাদ নিতে আর জীবনের পাপ ধুয়ে ফেলতে প্রতিবারই এই শাঁখা পুকুরে স্নান করতে আসি। এবারও সেই টানেই আসা।”

বগুড়ার সীমা রায় কিংবা নাটোরের নিপা সাহার মতো অসংখ্য ভক্তের বিশ্বাস—এখানে এলে দেহ ও মন দুটোই পবিত্র হয়। মনের গোপন বাসনা পূরণের আশায় কেউ এনেছেন ফুল, কেউবা নৈবেদ্য।

উৎসবের বিশালতা মাথায় রেখে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দিনভর নিরবচ্ছিন্ন প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিল বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল।

শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উৎসব কমিটির সদস্য বাবু স্বাধীন কুমার কুন্ডু জানান, প্রশাসন ও মন্দির কমিটির সমন্বয়ে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “অন্যান্য বছরের মতো এবারও উৎসবটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশী পর্যটকসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম আমাদের এই আয়োজনকে সার্থক করেছে।”

error: Content is protected !!