bogra times Add
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ ২০২৬

যশোরে আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধিঃ
মার্চ ৫, ২০২৬ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের শার্শায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে হাতে-নাতে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় একটি চোরাই মোটরসাইকেল, বিভিন্ন জেলার ভুয়া নম্বর প্লেট, মাস্টার চাবিসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থিত রাবেয়া সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘শফি মোটরস ওয়ার্কসপ’ নামের একটি গ্যারেজে এই অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের ইব্রাহিম মোড়লের ছেলে রাকিব হোসেন (১৯) ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ছোট ভেটখালী গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর ছেলে মনিরুজ্জামান (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শার্শা থানার একটি টহল দল এসআই শেখ আল আমিনের নেতৃত্বে অভিযান চালায়। এ সময় ওই দুই যুবককে গ্যারেজের ভেতরে একটি মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ খুলতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ তাদের হেফাজত থেকে নীল রঙের একটি ইয়ামাহা এফজেডএস ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: খুলনা মেট্রো-ল-১৩-৭২৯৫) জব্দ করে। এ ছাড়া একটি ডিজিটাল নম্বর প্লেট, একটি টিনের নম্বর প্লেট, ১১টি কম্পিউটার প্রিন্ট করা লেমিনেটেড নম্বর প্লেট, দুটি মোটরসাইকেলের চাবি ও লোহার রড দিয়ে তৈরি ‘টি’ আকৃতির একটি মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়। জব্দ মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা।

পরে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির মালিক খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এনায়েতুল ইসলামকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে তাঁর মোটরসাইকেল শনাক্ত করেন। তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক থেকে সম্প্রতি তাঁর মোটরসাইকেলটি চুরি হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মনিরুজ্জামান পুলিশকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত। খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে তারা নাভারণ রেলবাজার এলাকার এই গ্যারেজে এনে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দিতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির মূলহোতা হিসেবে নাভারণ রেলবাজারের বাসিন্দা সান্দার আলীর ছেলে শফিয়ার রহমান (৪৩) ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে খলিল গাজীর (৪৬) নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা বর্তমানে পলাতক।

এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮০/৪১১/৪১৩/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে আটক দুই আসামিকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘আটক আসামিদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শার্শা থানা এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই যন্ত্রাংশ বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।’