bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ১১ মার্চ ২০২৬

শেরপুরে কিশোরকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, থানায় মামলা

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
মার্চ ১১, ২০২৬ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে রাতভর আটকে রেখে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। র্যাকেট ভাঙার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে একদল যুবক ওই কিশোরকে অপহরণ করে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে জোরপূর্বক মিউজিকের তালে নাচানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত ১০ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা মোঃ জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার (মামলা) দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার হামছায়াপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ জহুরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল হাসান স্বপ্নীল (কিশোর) স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলা করত। প্রায় দুই মাস আগে শেরপুর থানাধীন খন্দকারটোলা গ্রামের তাকওয়া মসজিদের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় স্বপ্নীলের হাতে থাকা একটি র্যাকেট ভেঙে যায়। ওই র্যাকেটটি অভিযুক্তদের একজনের ছিল।

পরে অভিযুক্তরা স্বপ্নীলের বাড়িতে গিয়ে নতুন র্যাকেট কেনার দাবি জানায়। স্বপ্নীলের বাবা জহুরুল ইসলাম তাদের দুই দিনের মধ্যে নতুন র্যাকেট কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি র্যাকেট কিনে দিতে বললে অভিযুক্তরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এই ক্ষোভের জের ধরে গত ৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে শেরপুর পৌরসভার আঁখি মনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে অভিযুক্তরা কৌশলে স্বপ্নীলকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে শেরপুরের শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় (মৃত শামসু হুদার বাড়ি) নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে আটক করে রাখা হয়।

এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন:

এ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- হামছায়াপুর কাঠালতলা এলাকার সালাউদ্দিন ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সাদ (গ্রেপ্তার), সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বেংনাই এলাকার মুঞ্জুর আলমের ছেলে মোত্তালিব আলভী, শেরপুরের চক খাগা এলাকার শহিদ আক্তার ওরফে প্রিন্স নায়েবের ছেলে আহনাফ শাহরিয়ার জাহেন, খন্দকারটোলা এলাকার আসাদ আলীর ছেলে সিয়াম, একই এলাকার সুফিয়ান শাহরি ও বাগানবাড়ী এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে সাদিকুর রহমান অয়ন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৬ মার্চ রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রথমে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করা হয়। পরে একপর্যায়ে অপমান করার উদ্দেশ্যে তার পরনের কাপড় খুলে তাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হয়। এরপর মোবাইল ফোনে মিউজিক বাজিয়ে জোরপূর্বক তাকে নাচতে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নাচতে নাচতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়লে আবারও তাকে মারধর করা হয়।

এছাড়া অভিযুক্তরা স্বপ্নীলের মাথার চুল কেটে তার মাথার আকৃতি বিকৃত করে দেয় এবং ধারালো বস্তু দিয়ে তার মাথার সামনের অংশে আঘাত করে জখম করে। এক পর্যায়ে আরও একজন অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে এসে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে রাতভর ছেলে বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের দুজন স্বপ্নীলের বাবাকে জানায়, তাকওয়া মসজিদে চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে স্বপ্নীলের বাবা-মা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে ৬ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত সে চিকিৎসাধীন ছিল।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ৬ জন আসামির নামে মামলা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কোঠর আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে ।