bogra times cover image-1
ঢাকাMonday , 2 March 2026

শেরপুরে কেমিক্যাল কারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রভাষকসহ আটক ২

Link Copied!

বগুড়ার শেরপুরে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি কলেজের প্রভাষক। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের দাবি, কারখানার দূষণের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গতকাল রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামের তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু (৪৫) এবং সীমাবাড়ি বাজার এলাকার আলী রেজা বিশ্বাস (৫০)। আলী রেজা বিশ্বাস সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বেগম নুর নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের প্রভাষক।

আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টার দিকে আসামিরা ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনে গিয়ে কোম্পানির নিরাপত্তা ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়ার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার হুমকি দেন তারা। এ ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার এসআই সিয়াম হোসেন জানান, এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু ও আলী রেজা বিশ্বাসকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে এক এজাহারনামী আসামি ফাহিম ফয়সাল মুঠোফোনে জানান, এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের বর্জ্য করতোয়া ও বাঙালী নদীতে ফেলায় পানি দূষিত হয়ে মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি রায়গঞ্জের ধানগড়া ও পাবনা বাজারে মানববন্ধন করেন তারা। পরে শেরপুরের ওই দুই কোম্পানির সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করায় তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের পরিবারের মালিকানাধীন এবং পুলিশ সঠিক তদন্ত না করেই তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

এসআর কেমিক্যালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলী রেজা পাল্টা দাবি করেন, তাদের কোম্পানির বর্জ্য পরিশোধনাগারের মাধ্যমে পরিষ্কার করে ফেলা হয়, যা নদীর পানিতে ফেলার আগে সব ধরনের বিষাক্ত উপাদানমুক্ত করা হয়। তাই নদী দূষণের অভিযোগ সত্য নয়।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, মামলাটি আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

error: Content is protected !!