bogra times cover image-1
ঢাকাসোমবার , ১০ আগস্ট ২০২৬

শেরপুরে শূন্য পাসের হার দুই মাদ্রাসায়, শতভাগে শীর্ষে শেরউড

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
আগস্ট ১০, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার ফলে বৈপরীত্য

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একই শিক্ষাবর্ষের ফলাফলে দেখা গেছে চরম বৈপরীত্য। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সব শিক্ষার্থী পাস করলেও দুটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আবার মাধ্যমিক পর্যায়ে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউ পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য। একইভাবে মধ্যভাগ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুজনের কেউই উত্তীর্ণ হয়নি।

অবশ্য শুধু এই দুটি মাদ্রাসাতেই নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসায় এবার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বেলগাছি মুসতি দেওয়ান দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র দুজন। পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ। মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে চারজন।

মাধ্যমিক পর্যায়েও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বেশ দুর্বল। উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ভাদড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল সবচেয়ে কম। মির্জাপুর ইউনিয়নের এই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এর বিপরীতে শেরপুরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার ভালো ফল করেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ১০০ শতাংশ। এই ফলাফলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় শীর্ষস্থান দখল করেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ।

একই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে এমন বড় ব্যবধান নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বা এর কাছাকাছি সাফল্য, অন্যদিকে কোথাও শূন্য বা খুব কম পাসের হার। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পর শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। বছরজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম তদারক করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ, সেসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকদের পাঠদানের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অনেক শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। এ কারণে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলোর ফলাফল উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা মনে করেন, ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ব্যবস্থাপনা ও পাঠদান পদ্ধতি পর্যালোচনা করে সেগুলোর কার্যকর দিকগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যার কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে শেরপুরের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নত হতে পারে।