bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

সিসা দূষণের ভয়াবহ চিত্র: মাটির নিচে বিষ, শিশুদের রক্তে ৩৫০ গুণ বেশি ঝুঁকি

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক | ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের মাটিতে সিসার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা পিওর আর্থ-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মাটিতে সিসার মাত্রা সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) পর্যন্ত পৌঁছেছে। অথচ মার্কিন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (ইপিএ) মতে এই সহনীয় মাত্রা মাত্র ২০০ পিপিএম। অর্থাৎ, নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ৩৫০ গুণ বেশি বিষাক্ত সিসা মিশে আছে আমাদের মাটিতে।

গতকাল সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পিওর আর্থের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

শিশুদের স্বাস্থ্যে চরম ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত এলাকার শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা সর্বোচ্চ ৪৭ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটার পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুযায়ী এর নিরাপদ মানদণ্ড হলো মাত্র ৩.৫।

পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস বলেন, “এই মাত্রা শিশুর স্নায়ু বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য ভয়াবহ হুমকি। ভবিষ্যতে যেন এমন দূষিত স্থান আর তৈরি না হয়, সেজন্য এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”


দূষণ মোকাবিলায় নতুন জাতীয় নির্দেশিকা

সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাঠামো পর্যালোচনা ও যাচাই করছে:

১. টক্সিক সাইট আইডেনটিফিকেশন প্রোগ্রাম গাইডলাইন।

২. সিসা-দূষিত স্থানের প্রতিকার ও ঝুঁকি হ্রাস নির্দেশিকা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান আশা প্রকাশ করেন যে, এই নির্দেশিকাগুলো অনুমোদিত হলে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দূষিত স্থান শনাক্ত করা সহজ হবে।

১০ বছরের মধ্যে মহামারির আশঙ্কা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এক হুঁশিয়ারি বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন:

“আগামী ১০ বছরের মধ্যে ব্যবহৃত ব্যাটারির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে সিসা দূষণ দেশে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।”

তিনি আরও জানান, এই নির্দেশিকাগুলোকে দ্রুত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে যাতে সরকার বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।


এক নজরে গবেষণার ফলাফল

সূচক গবেষণালব্ধ মাত্রা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ভয়াবহতা
মাটিতে সিসা ৭০,০০০ পিপিএম ২০০ পিপিএম ৩৫০ গুণ বেশি
রক্তে সিসা (শিশু) ৪৭ মাইক্রোগ্রাম ৩.৫ মাইক্রোগ্রাম প্রায় ১৩ গুণ বেশি

আপনি কি এই নিউজটির ওপর ভিত্তি করে কোনো সচেতনতামূলক ইনফোগ্রাফিক টেক্সট বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরি করতে চান?