bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ২৫ এপ্রিল ২০২৬

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচার, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান

নিউজ ডেস্কঃ-
এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্ক: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও ধারণ করে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করলে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। এসব অপরাধ ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে সদ্য পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ।

মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকে মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে ঘুরে অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছে। অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে থাকে। এই প্রেক্ষিতে প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দৃষ্টান্ত রোধে কী পরিকল্পনা রয়েছে।

জবাবে মন্ত্রী জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ইতিমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে সংসদের বৈঠকে পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’–এর বিভিন্ন ধারায় এসব অপরাধের বিস্তারিত দণ্ড ও প্রতিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

যা বলছে আইন

আইনের ২৫(১) ধারা অনুযায়ী, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের অভিপ্রায়ে তথ্য, ভিডিও, চিত্র বা কোনো উপাদান প্রেরণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রচারের হুমকি দেওয়া অপরাধ।

এ অপরাধের দণ্ড:

  • ধারা ২৫(২): অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

  • ধারা ২৫(৩): ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

  • চাঁদা দাবির বিষয়টি ধারা ২২ (সাইবার স্পেসে প্রতারণা)-এর আওতায় পড়বে, যেখানে অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রযুক্তিগত ও তদন্ত ব্যবস্থা

আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন এবং বিটিআরসিকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করতে পারেন। ধারা ৯ অনুযায়ী, জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার এসব অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

ধারা ৩২ অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত তদন্তের সময়সীমা নির্ধারিত করা হয়েছে ৯০ দিনের মধ্যে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া ধারা ৩৫ অনুযায়ী, পরোয়ানা ছাড়াই জরুরি ক্ষেত্রে তল্লাশি, ডিভাইস জব্দ ও অপরাধী গ্রেফতারের বিধান রাখা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মন্ত্রী জানান, আইনের ৫ ও ৬ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সনদধারী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমেও ভিডিওর উৎস ও অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।