bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গুগল ম্যাপ ব্যবহার করলেও কীভাবে থাকবেন গোপনীয়তার আড়ালে?

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অচেনা রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কিংবা নতুন কোনো স্থান খুঁজতে গুগল ম্যাপ এখন অনেকেরই দৈনন্দিন সহচর। তবে আপনি কি জানেন, গুগল ম্যাপ শুধু পথই দেখায় না—আপনার গতিবিধির বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করে চলেছে নিয়মিত? অনেকেই মনে করেন, ম্যাপ ব্যবহার শেষে লোকেশন বন্ধ করে দিলেই ডেটা সংরক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি ততটা সরল নয়।

লোকেশন বন্ধ হলেও ডেটা যায় গুগলের কাছে
গুগল ম্যাপের টাইমলাইন ফিচার আপনার যাতায়াতের ইতিহাস সংরক্ষণ করে। আপনি টাইমলাইন মুছে দিলেও গুগলের সার্ভারে সেই তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয় না। পরবর্তীতে ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন দেখানোর কাজে এই ডেটা ব্যবহৃত হতে পারে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন ডেটা শেয়ারিং?
গুগল অ্যাকাউন্টের ‘My Activity’ পেজে গিয়ে নিয়মিত অ্যাক্টিভিটি ডিলিট করা একটি কার্যকর উপায়। এ ছাড়া গুগল ম্যাপের বদলে এমন অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যেগুলো ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় বেশি মনোযোগী।

বিকল্প অ্যাপের সন্ধানে
গুগল ম্যাপের বিকল্প হিসেবে ওয়েজ ম্যাপ জনপ্রিয় হলেও এটি গুগলেরই অন্তর্ভুক্ত, ফলে গোপনীয়তার একই ঝুঁকি থেকে যায়। অ্যাপল ম্যাপ গোপনীয়তা সুরক্ষায় ভালো হলেও শুধুমাত্র আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য হিয়ার উইগোম্যাপকোয়েস্ট বা ওপেনস্ট্রিটম্যাপ-ভিত্তিক অ্যাপগুলো কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

স্মার্টফোন সেটিংসেও প্রয়োজন সচেতনতা
অনেক ব্যবহারকারী লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখলেও ‘লোকেশন হিস্টোরি’, ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ বা ‘ব্যাকগ্রাউন্ড লোকেশন অ্যাকসেস’ চালু রাখেন, যা অজান্তেই ডেটা সংগ্রহ করতে থাকে। অ্যান্ড্রয়েডে সেটিংস > লোকেশন > অ্যাপ পারমিশনে গিয়ে প্রতিটি অ্যাপের জন্য আলাদাভাবে লোকেশন এক্সেস ঠিক করে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যাকসেস বন্ধ রাখলে ঝুঁকি কমে।

নিয়মিত মনিটরিং জরুরি
মাসে একবার হলেও গুগল ম্যাপের ‘টাইমলাইন’ পরীক্ষা করে দেখা উচিত—কোনো অচেনা বা অপ্রয়োজনীয় লোকেশন তথ্য জমা হচ্ছে কিনা। প্রয়োজন না থাকলে টাইমলাইন অফ করে রাখা ভালো।

গুগল ম্যাপ অপরিহার্য একটি টুল হলেও এর ব্যবহারে সচেতনতা গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়ক। সঠিক সেটিংস ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল পথচলা অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব।