bogra times Add
ঢাকারবিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানের আগে বগুড়ায় লেবুর দাম হালি ৫০ টাকা

বগুড়া প্রতিনিধিঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়ার বাজারে এখন লেবু কিনতে গেলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে প্রতি পিস লেবুর দাম বেড়েছে অন্তত ৭-১০ টাকা। আর এক হালি কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মাসখানেক আগেও যে লেবু কিনতে খরচ হতো মাত্র ৩-৫ টাকা পিস, সেই লেবু এখন পকেটে চাপ ফেলছে। শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

সরেজমিনে শহরের রাজা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের লেবুর কদর এখন তুঙ্গে। ক্রেতারা এক হালি কিনতে দর জানাচ্ছেন, আর বিক্রেতার কাছ থেকে শুনছেন চড়া মূল্য। সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে ১৬-২০ টাকায় এক হালি লেবু মিলত, সেখানে এখন সেই লেবু কিনতে খরচ দ্বিগুণেরও বেশি।

লেবু ব্যবসায়ী রমজান আকন্দ দৈনিক করতোয়াকে জানান, এখন আর লেবুর মৌসুম নেই। গাছে নতুন ফুল আসছে, কিছু গাছে ছোট ফল ধরেছে। তাই বাজারে সরবরাহ কম। তিনি বলেন, “তবে কিছু জাতের লেবু আছে যেগুলো সারা বছরই কমবেশি পাওয়া যায়, সেগুলোই এখন বাজারে আসছে।” এছাড়া সম্প্রতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুই-তিন দিন পরিবহন সীমিত থাকায় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।

তবে খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা অভিযোগ করছেন, বাগান মালিক ও আড়তদারেরা আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বেশি মুনাফার আশায় লেবু মজুত করছেন। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে।

লেবু কিনতে আসা ক্রেতা আসাদুল আলম দৈনিক করতোয়াকে তার ক্ষোভের কথা জানান। তিনি বলেন, “মাসখানেক আগে ১৫-২০ টাকায় হালি কিনেছি। রোজা এখনও শুরু হয়নি, অথচ লেবুর হালি কিনতে ৪০-৫০ টাকা চাচ্ছে!” আরেক গৃহিণী হাবিবা খাতুন বলেন, “রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। সারাদিন রোজা রাখার পর লেবুর শরবতটা স্বস্তি দেয়। কিন্তু লেবুর দামই যখন অস্বাভাবিক, তখন শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠায় সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। লেবু, যা রোজাদারদের জন্য অন্যতম উপকারী ও প্রয়োজনীয় একটি খাবার, তার দাম অস্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতারা এখন দিশেহারা। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রেতাদের প্রত্যাশা, রমজানে যেন লেবুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে জন্য বাজার মনিটরিং বাড়ানো হোক।