bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬

নিম্নমানের উপকরণের অভিযোগ, শেরপুরে এলজিইডির রাস্তার কাজ বন্ধ

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
মে ১২, ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়ক উন্নয়নকাজ স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তার কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী কাজ বন্ধের দাবি জানান। পরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষও সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌর হাট এলাকা থেকে ৩ হাজার ৮ মিটার থেকে ৬ হাজার ৩২০ মিটার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের দায়িত্ব পায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া ঘোড়ামারা সাহেব বাজার এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৮৬ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫১৭ টাকা। গত বছরের ১৬ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

উপজেলার পার ভবানীপুর থেকে খোকসা গাড়ি পাকার মাথা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার লেভেলিংয়ের কাজে নিয়ম অনুযায়ী বালু ব্যবহার না করে পাশের একটি পুকুর থেকে কাটা মাটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির প্রকৌশলীরা নিয়মিত পরিদর্শনে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল বাচ্চু বলেন, “আমরা মানসম্মত রাস্তা চাই। পুকুরের মাটি দিয়ে রাস্তা করা হলে বর্ষায় তা ভেঙে যাবে। ঠিকাদারকে বালু ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না।”

আরেক বাসিন্দা আমজাদ বলেন, “প্রায় দুই মাস ধরে রাস্তা খুঁড়ে রাখায় আমরা দুর্ভোগে আছি। স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে চলাচল করছে। এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো তদারকি চোখে পড়েনি। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।”

অভিযোগ উঠেছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে পরিচালনা করছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ এলাকার শফিক নামের এক ব্যক্তি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মজিদ বলেন, “রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের খবর পাওয়ার পরই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারকে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।