bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬

অবশেষে উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস আবিষ্কার

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৭:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | ২০ জানুয়ারি ২০২৬

উদ্ভিদ তার পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালায়—বইয়ের পাতায় পড়া এই তাত্ত্বিক বিষয়টি এবার সরাসরি দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষকরা এমন এক বিশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাসের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া গেছে।

‘স্টোমাটা ইন-সাইট’: উদ্ভিদের রহস্যময় জানলা

গবেষকরা ‘স্টোমাটা ইন-সাইট’ নামক একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যা পাতার ওপর থাকা অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র বা ‘স্টোমাটা’র কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই স্টোমাটাকেই উদ্ভিদের ‘মুখ’ বলা হয়, যা দিয়ে তারা পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প ত্যাগ করে।

প্রযুক্তি যেভাবে কাজ করে

এই উদ্ভাবনে তিনটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে: ১. উচ্চ রেজোলিউশনের কনফোকাল মাইক্রোস্কোপ। ২. নির্ভুল গ্যাস আদান-প্রদান পরিমাপক ব্যবস্থা। ৩. উন্নত মেশিন-লার্নিং ভিত্তিক ইমেজ বিশ্লেষণ সফটওয়্যার।

গবেষণার সময় পাতার একটি ক্ষুদ্র অংশকে হাতের তালু আকৃতির একটি ‘কম্প্যাক্ট চেম্বারে’ রাখা হয়। সেখানে আলো, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে স্টোমাটার প্রতিটি কোষীয় পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ভিডিওতে যা দেখা গেল

গবেষকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, আলো থাকলে স্টোমাটাগুলো পাপড়ির মতো খুলে যাচ্ছে এবং অন্ধকারে সেগুলো আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্ভিদ আলোকসংশ্লেষণ নিশ্চিত করে এবং শরীরের অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়া রোধ করে।

“আলোর উপস্থিতিতে স্টোমাটা খুলে যায় এবং অন্ধকারে বন্ধ হয়ে যায়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন খাদ্য তৈরি নিশ্চিত হয়, তেমনি পানির অপচয়ও কমে।” — অধ্যাপক অ্যান্ড্রু লিকি, প্ল্যান্ট বায়োলজি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়।

কৃষি বিপ্লবের নতুন সম্ভাবনা

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে:

  • ফসলকে আরও পানি-দক্ষখরা-সহনশীল করে তোলা সম্ভব হবে।

  • এমন সব জিনগত বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যাবে যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল উৎপাদন সচল রাখবে।

বাণিজ্যিক ব্যবহার ও প্রকাশনা

আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘প্ল্যান্ট ফিজিওলজি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় ইতোমধ্যে প্রযুক্তিটির পেটেন্ট নিয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ মানুষের জন্য না আসলেও, শিগগিরই বৈজ্ঞানিক ও গবেষণার প্রয়োজনে এটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি