bogra times
ঢাকাসোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ইটভাটার গ্রাসে কৃষিজমি: কাটা হচ্ছে ‘টপ সয়েল’

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলছে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একাধিক ইটভাটায় এই অবৈধ মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে, যার ফলে জেলার কৃষি অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো যাচ্ছে না।

উপজেলার তালুক নাককাটি গর্বের দোলা ও জয়ডোভের দোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, দিন-রাত ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর) দিয়ে দেদারসে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ট্রাক্টরে করে সেই মাটি চলে যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, কোথাও ৩ ফুট থেকে শুরু করে কোথাও ১২ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্ত করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে শুধু যে চাষাবাদ বন্ধ হচ্ছে তা নয়, পাশের জমিও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী চাষি আক্ষেপ করে বলেন,

“আমার সাড়ে সাত একর আবাদি জমি এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে। যেভাবে মাটি কাটা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে আর আবাদ করা সম্ভব হবে না। আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি, রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয়দের দাবি, একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। অন্যদিকে, ইটভাটা সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ‘নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে’ বলে দাবি করলেও কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রেজাউল করিম জানান, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধে তারা কাজ করছেন। তিনি বলেন:

“স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নতুন পরিপত্রও জারি করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে।”

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির উপরিভাগের উর্বর অংশ কেটে ফেলায় জমির ফলন শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে এবং ধুলাবালিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

অবৈধ এই মাটি কাটা বন্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং স্থায়ী ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ ও কৃষক সম্প্রদায়।