bogra times
ঢাকাশনিবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি: উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ও মার্কিন নৌবহর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানের সাথে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাতারে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারের রাজধানী দোহার কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করা হয়।

ব্রিটিশ টাইফুনের লক্ষ্য: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এই টাইফুনগুলো যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট ‘নম্বর ১২ স্কোয়াড্রন’-এর অংশ হিসেবে কাজ করবে। মূলত ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতো হুমকি মোকাবিলায় টাইফুন অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, “এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।”

প্রস্তুত মার্কিন নৌবহর ও ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর পাঠানো হয়েছে।

  • ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন: এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানবাহী এই রণতরীটি বর্তমানে মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাবে। এর সাথে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন।

  • ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ: ভার্জিনিয়া থেকে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

  • আকাশ প্রতিরক্ষা: ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে পেন্টাগন।

আল উদেইদ ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব ও ঝুঁকি

আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সদর দপ্তর অবস্থিত। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ফলে বর্তমান উত্তেজনায় এই ঘাঁটিটি আবারও ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পটভূমি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি

প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন কেবল আশ্বস্ত করার জন্য নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পেতে যাচ্ছে, যা এগুলোর সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


বিশেষ পর্যবেক্ষণ: ইতিপূর্বে সিরিয়ায় আইএসআইএস এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানে এই টাইফুনগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।