bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, কিছু জটিল বিষয় অমীমাংসিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-: চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে এই আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। তবে শান্তি প্রক্রিয়ায় এখনো বেশ কিছু অমীমাংসিত ও জটিল বিষয় বা ‘স্টিকিং পয়েন্ট’ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেস।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষই যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে একমত হলেও বেশ কিছু মৌলিক ইস্যুতে এখনো মতবিরোধ কাটেনি।

আলোচনার মূল বাধাগুলো:

১. নিরাপত্তা গ্যারান্টি: ইরান তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর শর্তারোপ করছে।

২. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অর্থনৈতিক অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করছে।

৩. আঞ্চলিক স্বার্থ: ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে দেশ দুটির বিপরীতমুখী অবস্থান আলোচনার টেবিলে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষই নিজ নিজ প্রভাব বলয় বজায় রাখতে মরিয়া।

আল জাজিরার জেমস বেস বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, যদিও দুই দেশ টেবিলে বসেছে—যা একটি বড় অগ্রগতি—কিন্তু কয়েক দশকের অবিশ্বাস রাতারাতি দূর হওয়া কঠিন। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুই দেশের সরকারই প্রবল চাপের মুখে রয়েছে, যা সমঝোতার পথকে পিচ্ছিল করে তুলছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা পেতে আরও কয়েক দফা আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে—সেখান থেকে কোনো ‘ব্রেক-থ্রু’ আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

(নিউজটি আল জাজিরার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লেখা।)