bogra times cover image-1
ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পেকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চললে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো সতর্ক করে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইরানে পুনরায় হামলা চালানো হলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে মার্কিন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’

জাখারোভা আরও বলেন, এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। এছাড়াও ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনাকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছে মস্কো। রাশিয়ার মতে, বাণিজ্য শুল্ককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।

এদিকে, ইরানে চলমান অস্থিরতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সরব হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন, তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’

একই পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন। বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের সামরিক সংঘাতের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন করে যুদ্ধের দামামা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একদিকে ট্রাম্পের ‘সহায়তা’র প্রতিশ্রুতি এবং অন্যদিকে রাশিয়ার ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তি এখন সরাসরি সংঘাতের মুখোমুখি।