bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এপস্টাইন নথিতে বাংলাদেশের উল্লেখ

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক নিউজ  – মার্কিন আদালত কর্তৃক গত সপ্তাহে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টাইন-সংক্রান্ত গোপন নথিপত্রে বাংলাদেশের একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। তবে নথিগুলোতে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এপস্টাইনের কুখ্যাত অপরাধ চক্রে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশের নাম এসেছে প্রধানত যোগাযোগ, ইমেল আদান-প্রদান, সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও বৈঠকের প্রেক্ষাপটে। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্যের কারণে এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের আগ্রহ তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

যেসব নাম উল্লেখ রয়েছে

নথিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম একটি সামাজিক পরিচয়ের প্রসঙ্গে পাওয়া গেছে। ‘দ্য সিম্পসনস’-এর স্রষ্টা ম্যাট গ্রোনিংয়ের সঙ্গে ইউনূসের পরিচয় করিয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা পরে মুছে ফেলা হয়।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআর,বি এবং ওয়েস্ট কনসার্ন বাংলাদেশ-এর নামও একাধিক ইমেলে উল্লেখ আছে। ২০১৪ সালের একটি ইমেলে আইসিডিডিআর,বি-কে ‘অত্যন্ত বিখ্যাত’ প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করে প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

নথিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম থাকলেও আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘রিউমার স্কানার’ এটি ভুয়া তথ্য বলে নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনের দাতাদের তালিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম পাওয়া গেছে, যিনি ২০০৬ সালে নির্বাচনী অনুদান দিয়েছিলেন। তবে মিন্টু ও এপস্টাইনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ নেই।

এপস্টাইনের কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্য, জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে আগ্রহের নথি রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মেলে। ২০১৫ সালের একটি বার্তায় এপস্টাইন বাংলাদেশে একটি কলেরা প্রকল্পে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেও ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সূত্রে জানা গেছে, এপস্টাইন সংক্রান্ত কোনো নথি বা তথ্য চেয়ে আমেরিকা বা আন্তর্জাতিক আদালতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা যোগাযোগ করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, “বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কারণে এপস্টাইনের মতো ব্যক্তির আগ্রহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই সংযোগগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নথিগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ নেই। প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখব।”

এপস্টাইন নথিতে বাংলাদেশের নাম উঠে এলেও, তা অপরাধের rather than উন্নয়ন ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গে। তবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নথি ও তার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।