bogra times
ঢাকাসোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

খামেনিকে সরানোর হুমকি ট্রাম্পের, যুদ্ধ ঘোষণার শামিল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা বা ক্ষমতাচ্যুত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যেকোনো আঘাত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে গণ্য হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও খামেনিকে আক্রমণ

গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার সময় এসেছে।” খামেনির কঠোর সমালোচনা করে তিনি তাকে একজন ‘অসুস্থ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, খামেনির উচিত দেশ সঠিকভাবে চালানো এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করা বন্ধ করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প খামেনিকে হত্যা বা ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরানের কড়া জবাব ও যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পাল্টা পোস্ট করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি লেখেন, “আমাদের গ্রেট লিডারের ওপর হামলা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।”

পেজেশকিয়ান ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইরানিদের বর্তমান আর্থিক কষ্টের মূল কারণ হলো পশ্চিমা দেশগুলোর অমানবিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘদিনের শত্রুতা।

বিক্ষোভ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা জানুয়ারি মাসের শুরুতেই সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকার পতনের পাশাপাশি খামেনির মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়। ইরান সরকারের দাবি, এই বিক্ষোভে সরাসরি উসকানি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই বিক্ষোভের পেছনে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।

রক্তক্ষয়ী দমন ও প্রাণহানি

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আয়াতুল্লাহ খামেনি এই বিশাল প্রাণহানির জন্য সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিকে দায়ী করেছেন।