bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ মার্চ ২০২৬

চীনের ভূমিকার প্রশংসায় জামায়াত, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের আশাবাদ

নিউজ ডেস্কঃ-
মার্চ ১৭, ২০২৬ ৪:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক, ঢাকা:
চীনের সহায়তায় রাজধানীর মিরপুরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ঢাকা-১৫ আসনের প্রায় সহস্রাধিক অসহায় মানুষের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান চীনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “চীন আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। অথচ অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই যখন-তখন হস্তক্ষেপ করে। চীন অনবরত বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েই চলেছে।” তিনি চীনের কাছ থেকে আরও বেশি উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

জামায়াত আমির এই খাদ্যসামগ্রী প্রদানের জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটা আমাদের স্বল্প আয়ের ভাই-বোনদের জন্য সামান্য উপহার। এর আগে গত বছর গাজীপুরে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছেন। এই উপহার ঈদের দিনে তাদের মাঝে খুশির ঝিলিক এনে দিলে সেটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া।”

৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব

দীর্ঘ ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম আন্তরিক পার্টনার এবং উন্নয়নের অংশীদার। তাদের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পুরোটাই চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য উপহার।”

তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। তারা এই হলটার নাম বাপের নামে করেছিল। একটা দেশের উপহারের নাম-নিশানাই উঠিয়ে দেওয়া হয়। এটা চরম অকৃতজ্ঞতা।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ সেটি দখলমুক্ত হয়েছে এবং এ জন্য তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

উত্তরাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। অতীতে এটা কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবাই বোঝে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা আর বহন করতে চাই না।” তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সমর্থন নয়, বরং তা বাস্তবায়নে কিছু করার থাকলে তাও করব। কারণ আমরা দেশ ও মানুষের কল্যাণ চাই।”

চীনের অন্যান্য সহযোগিতার কথাও তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চীন ইতোমধ্যে এক হাজার শয্যার দুটি হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল নির্মাণের বাজেট ঘোষণা করেছে। এগুলোই বন্ধুত্বের নিদর্শন। তারা কথায় নয়, কাজে বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছেন।”

আধিপত্য নয়, সম্মানের সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সারা দুনিয়ার সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই, কিন্তু ঘাড়ের ওপর কারো আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতের বোঝা ফেলে দিয়েছি, সেই বোঝা জাতি আর ঘাড়ে ওঠাবে না। আমাদের যুবসমাজ একদমই সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বিশ্বের বুকে বাঁচতে চায়, বলতে চায় ‘আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি’।”

তিনি আদর্শ স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার বক্তব্যে আসন্ন ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ঈদুল ফিতর হলো ভালোবাসা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের উৎসব। ঈদের এই খুশিতে সহায়তা করতে আমরা কিছু উপহার নিয়ে এসেছি। আশা করি এই উপহার মিরপুরের এসব মানুষের ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে।”

তিনি জানান, চীন সব সময় এ ধরনের সহায়তামূলক কাজ করে আসছে এবং জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে এই উপহার দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি ডা. শফিকুর রহমানকে সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা প্রমুখ।