bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে যাচ্ছে জামায়াত–১১ দলীয় ঐক্যজোট

নিউজ ডেস্কঃ-
এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে, সরকার বাধা দেবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ


জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় ঐক্যজোট। সংসদে দাবি উত্থাপন, মুলতবি প্রস্তাব ও ওয়াকআউটের পর এবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি।

জামায়াত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুলাই সনদ সংসদের আলোচ্যসূচিতে থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি নেই। সে কারণেই সংসদের পাশাপাশি রাজপথে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

কর্মসূচির পটভূমি

৬ এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সংসদ থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ৪ এপ্রিলের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজপথের আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে ৭ এপ্রিল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দল। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও বিক্ষোভ।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি বাতিল এবং ১৬টি এখনই বিল আকারে না আনার সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি। ফলে এ ২০টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকছে না। এতে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল। তাদের অভিযোগ, গণভোটে বিপুল সমর্থন পাওয়ার পরও সরকার গণরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এবং সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

আন্দোলন বেগবান করার ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যেও আমরা রাজপথ থেকে পিছপা হইনি। এবারও সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছি। আগামী দিনে জোটগতভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। শুধু ১১ দলীয় জোট নয়, অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিও আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে বলে আশা করছি। তবে সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘পরিবেশ ও পরিস্থিতির আলোকে আমাদের আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।’

বিএনপির অবস্থান

বিরোধী দলের গঠনমূলক আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি হলে তা অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক আন্দোলন বিরোধী দল চালাতেই পারে। এটা তাদের অধিকার। সুষ্ঠুভাবে কর্মসূচি পালন করলে পুলিশ নিরাপত্তা দেবে। তবে আন্দোলনকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মত

রাজনৈতিক এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আন্দোলন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়, ফলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকি থাকে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলনে যাওয়ার আগে সব গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায় কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। বর্তমান সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যেই আবার আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হলে অন্য কোনো শক্তি সেই সুযোগ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা দরকার। আন্দোলন হলেও তা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় পরিচালিত হওয়া উচিত।

সার্বিকভাবে, বিরোধী দলগুলো জোটগত আন্দোলন আরও বেগবান করার ঘোষণা দিলেও সরকারি দল এখন পর্যন্ত বাধা না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে। তবে রাজনৈতিক এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।