bogra times cover image-1
ঢাকাবুধবার , ১৫ জুলাই ২০২৬

বন্ধ মাদ্রাসায়ও সরকারি বই, শেরপুরে প্রশ্নের মুখে বিতরণ প্রক্রিয়া

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
জুলাই ১৫, ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

সরকার যখন সারা দেশের অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, তখন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর বাস্তব চিত্র উল্টো প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি অনুদান পাওয়া চারটি মাদ্রাসার অধিকাংশই কার্যত বন্ধ। কোথাও পাঠদান নেই, কোথাও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার ৭৫টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাতেই সরকারি বই বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলায় মোট ৭৫টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অনুদান পায় চারটি প্রতিষ্ঠান। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ৭৫টি মাদ্রাসাতেই বই বিতরণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ঘুরে দেখা যায়, কাফুরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের নথিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর তথ্য থাকলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সেখানে কেবল কয়েকজন শিক্ষককে দেখা গেছে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং ভবানীপুর ইউনিয়নের ইতালি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। কোথাও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে না, কোথাও শিক্ষার্থীর অস্তিত্বই মিলছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে কয়েকটি মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই কেবল নামমাত্র টিকে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে শিক্ষার্থী ও পাঠদান না থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বই বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে বই বিতরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করে নিয়ম মেনেই বই বিতরণ করা হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বই দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে প্রতিষ্ঠান চালু আছে কি না এবং শিক্ষার্থী রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বই বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, “শিক্ষার্থী না থাকলে বই বিতরণের প্রশ্নই ওঠে না। তারপরও যদি রাষ্ট্রের অর্থে বই বিতরণ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”