bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার, ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা/দাভোস, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তির (framework agreement) কথা ঘোষণা করেছেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে দাভোসে (সুইজারল্যান্ড) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পাশাপাশি বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানান, এই আলোচনা “খুবই ফলপ্রসূ” হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ডসহ সমগ্র আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যতের একটি চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শক্তি প্রয়োগ করবেন না। এর আগে ইউরোপের আটটি দেশের (ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড) ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি, কারণ তারা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। সেই হুমকি থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আলোচনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।

চুক্তির সম্ভাব্য উপাদান

ট্রাম্প সিএনবিসি ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই চুক্তি চিরস্থায়ী (infinite/long-term) হতে পারে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • খনিজ সম্পদের অধিকার (mineral rights) – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্রদের জন্য।
  • ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Golden Dome missile defense system) – রাশিয়া ও চীনের হুমকি থেকে উত্তর আমেরিকা রক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ডে এর অংশ স্থাপন। ট্রাম্প বলেন, “এটা সবার জন্য ভালো হবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও খনি-সংক্রান্ত বিষয়ে। আমেরিকা ও ন্যাটো দেশের পক্ষে খুবই ভালো বিষয়।”

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, চুক্তিতে খনিজ অধিকার ও আর্কটিকে নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয় থাকতে পারে। তিনি জোর দেন যে, ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “আজ রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথোপকথনে এই বিষয়টি আর আসেনি।”

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, “দিনটি যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে ভালোভাবেই শেষ হচ্ছে। এখন আসুন, বসে দেখি কীভাবে আমরা ডেনমার্ক রাজ্যের সীমানাকে সম্মান জানিয়ে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করতে পারি।”

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জোর দিয়ে বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড-সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শুধু এই দুটি দেশ। “আমরা রাজনৈতিক সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতে পারি—নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, অর্থনীতি। কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করতে পারি না।”

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, তিনি এখনও চুক্তির বিস্তারিত জানেন না, কিন্তু সার্বভৌমত্ব “রেড লাইন”।

পরবর্তী পদক্ষেপ

ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি তার কাছে প্রতিবেদন দেবেন। আলোচনা চলবে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটোর সঙ্গে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা যা চাই, আমরা তা পাচ্ছি। সবাই খুব খুশি।”

এই ঘোষণায় ইউরোপে স্বস্তি ফিরলেও, বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান। গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ডেনমার্কের অবস্থান অটল থাকায় ভবিষ্যতের আলোচনায় টানাপোড়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। —বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, ডয়চেভেলে ও অন্যান্য সূত্র