bogra times
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ‘ট্রিগারে আঙুল’ ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

আরব উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল যুদ্ধজাহাজ বহর মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক এখন চরম উত্তপ্ত। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলো কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালালেও যুদ্ধংদেহী মনোভাব বজায় রেখেছে উভয় পক্ষ।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে লক্ষ্য করে ফের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের আলোচনার টেবিলে ফেরার ‘সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে’।

একটি আক্রমণাত্মক তুলনা টেনে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলায় হামলার আগে ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যে নৌ শক্তি মোতায়েন করা হয়েছিল, ইরানের চারপাশে এখন তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী নৌ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবার ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানতে চাইছে।

‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত ইরান

ট্রাম্পের এই হুমকির প্রেক্ষিতে বিন্দুমাত্র পিছু হটতে রাজি নয় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া জবাব দিয়ে বলেছেন, মার্কিন যেকোনো আঘাতের পাল্টা জবাব দিতে ইরানের সেনাবাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার ‘তড়িৎ ও কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যেই তেহরান কৌশলগত হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, সংঘাত শুরু হলে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি ‘আল উদেইদ’ তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে।

পুরানো ক্ষত ও নতুন উত্তেজনা

উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তেহরানে হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনার মাত্র সাত মাস কাটতে না কাটতেই ফের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই দেশ। গত বছরের যুদ্ধে তেহরান ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতার জানান দিয়েছিল। এবার আগে থেকেই সতর্ক তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।