bogra times Add
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
মার্চ ১৯, ২০২৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক : বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কাতার এনার্জির একাধিক স্থাপনায় আগুন লেগে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হামলার বিস্তারিত
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে চারটি দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস করা গেলেও একটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জির ‘পার্ল জিটিএল’ (গ্যাস-টু-লিকুইডস) প্ল্যান্ট। এটি শেল কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস-টু-লিকুইডস প্রকল্প।

ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত
কাতার এনার্জি এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় পার্ল জিটিএল স্থাপনার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে এবং ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয় এবং পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সৌভাগ্যবশত, এখনও পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে হামলার আগেই স্থাপনাটি থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

কূটনৈতিক তৎপরতা
এ ঘটনার পর কাতার সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কাতারে নিযুক্ত ইরানের কূটনীতিকদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে কাতার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর আগে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান এর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। গত কয়েকদিনে শুধু কাতার নয়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।

বিশ্ববাজারে প্রভাব
রাস লাফান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে থাকে। এই কেন্দ্রে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ১১১ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং বর্তমানে তা ১১০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, রাস লাফানের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, যা বিশ্ববাজারে এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি করবে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান