bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ব্রিটেনের পারমাণবিক সুরক্ষা ইউরোপে কোনো নিরাপত্তা দেবে না: রুশ রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৯:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লন্ডন ও মস্কোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। ব্রিটিশ পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপের জন্য কোনো বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিন।

সম্প্রতি রুশ সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ পারমাণবিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ আসলে একটি ‘বিভ্রম’ মাত্র এবং এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য কোনো বাস্তব নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।

ইউরোপের নিরাপত্তা ও রুশ সতর্কতা

মূলত যুক্তরাষ্ট্র যখন ধীরে ধীরে ইউরোপের নিরাপত্তা থেকে নিজেদের ফোকাস কমিয়ে চীন ও নিজ দেশের দিকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তখন থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির আলোচনা জোরালো হয়ে ওঠে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তবে মস্কো এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি উস্কানিমূলক তৎপরতা হিসেবে দেখছে। রুশ রাষ্ট্রদূত কেলিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ব্রিটেন তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর যে চেষ্টা করছে, তা মস্কোর সামরিক পরিকল্পনায় গুরুত্বের সাথে নেওয়া হবে। তিনি মনে করেন, লন্ডনের এই পদক্ষেপ আসলে ইউরোপীয় নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেওয়ার একটি অবাস্তব প্রচেষ্টামাত্র।

ব্রিটিশ সক্ষমতা ও রুশ মূল্যায়ন

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হাতে থাকা ভ্যানগার্ড-শ্রেণির চারটি সাবমেরিন এবং ২২৫টি পারমাণবিক ওয়ারহেড কোনোভাবেই রাশিয়ার কৌশলগত অবস্থানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারবে না বলে ইঙ্গিত দেন রুশ রাষ্ট্রদূত। তার ভাষ্য, ব্রিটেনের এই পারমাণবিক সক্ষমতা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য কোনো বস্তুগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

স্টারমারের সতর্কতা ও লাভরভের প্রতিক্রিয়া

এদিকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই দশকের শেষ নাগাদ রাশিয়া ন্যাটোর ওপর হামলা চালাতে পারে। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এমন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার ইউরোপে আক্রমণের কোনো উদ্দেশ্য নেই, তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে কোনো হামলা হলে তার পূর্ণ সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ এবং রাশিয়ার কঠোর প্রতিক্রিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার পটভূমিতে ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প পথ খুঁজছে, যা রাশিয়ার কাছে মোটেই সুখবর নয়।