bogra times
ঢাকাশনিবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

যমুনার চরাঞ্চলে আখের গুড় তৈরির ধুম

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ |

শীতের আমেজ শুরু হতেই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা-পুলির উৎসব। আর এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খাঁটি আখের গুড়। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গুড় তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। এখানকার উৎপাদিত সুস্বাদু গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

বাপ-দাদার পেশায় ব্যবসায়ীরা

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে উৎপাদিত আখের রস থেকে তৈরি এই গুড় অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় গুড় ব্যবসায়ী মো. আঃ রাজ্জাক (৬৫) জানান, দীর্ঘ ৩৫-৪০ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রতি বছর আখের মৌসুমে ৫-৬ মাস তিনি মাঠের আখের ক্ষেত কিনে রস থেকে গুড় তৈরি করেন।

তিনি বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকেই আমরা এই ব্যবসা করছি। বর্তমানে প্রতি মণ গুড় পাইকারি দরে ২৭শ থেকে ২৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে মণপ্রতি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ থাকে।”

কারিগরদের ব্যস্ততা

গুড় তৈরির কারিগর আলহাজ্ব বেলালসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে গুড় তৈরির কাজ। জমি থেকে আখ সংগ্রহ করে মেশিনে মাড়াইয়ের পর বড় চুলায় জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় লালচে সুস্বাদু গুড়। কারিগররা জানান, এই মৌসুমে প্রতিদিন কাজ করে তাদের ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হচ্ছে, যা দিয়ে তাদের সংসার স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে।

বাজারজাতকরণ ও চাহিদা

সিরাজগঞ্জের আখের গুড় এখন জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সরাসরি মাঠ থেকে তৈরি হওয়ায় কোনো প্রকার ভেজাল ছাড়াই গ্রাহকরা খাঁটি গুড় পাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য ও উদ্যোগ

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে, এম মুনজুরে মাওলা জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৬০০ হেক্টর অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন:

  • প্রণোদনা: দেশি চিনি ও গুড়ের উৎপাদন বাড়াতে ১২০ জন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের আখের চারা ও উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

  • জাত: জেলায় বিশেষ করে ‘রং বিলাস’ ও ‘ফিলিপাইনের কালো জাতের’ আখের চাষ হচ্ছে, যা শিশুদের মেধা বিকাশ ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

  • চিনি ও গুড়: বাজারে সাদা চিনির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত দেশি গুড় উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।