bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬

যশোরে ক্ষুদে ক্রেতাদের পছন্দ জিন্স-পাঞ্জাবি, ফার্সি ড্রেসে ভরছে দোকান

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধিঃ
মার্চ ৪, ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মনির হোসেন, বেনাপোল

মাত্র ১৩টি রোজা পার হয়েছে। এখনো ঈদের বাকি অনেকটা পথ। কিন্তু যশোরের বিপণিবিতানগুলো এখন শিশুদের কলকাকলিতে মুখর। ‘আমি লেহেঙ্গা কিনেছি, মেহেদি দেবো ঈদের দিন, অনেক সাজবো’—পুলেরহাট এলাকার মিফতাহুল জান্নাতের মুখে এ কথাগুলো যেন উৎসবের আগমনী বার্তাই দিচ্ছে। ঘোপ এলাকার তাহিয়া তাবাসসুম বেছে নিয়েছে হালফ্যাশনের ফার্সি ড্রেস। মাগুরা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা ফারহান লাবিবের চোখ জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি আর পাঞ্জাবিতে।

যশোর শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কালেক্টরেট মার্কেট, কাপুড়িয়াপট্টি, সিটি প্লাজা—সবখানেই এখন শিশুদের পোশাকের বেচাকেনার ধুম। শুধু যশোর নয়, আশপাশের জেলা থেকেও ছুটে আসছেন ক্ষুদে ক্রেতারা।

ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ শুরু হয় শিশুদের কেনাকাটা দিয়েই। সে কারণেই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় সবার আগে স্থান পায় শিশুদের পোশাক। আর এবারের বাজারে চাহিদার শীর্ষে মেয়েদের হালফ্যাশনের ফার্সি ড্রেস। চওড়া ঘেরের সালোয়ার, হাঁটু পর্যন্ত কামিজ আর রঙিন ওড়না—এ পোশাকটি এখন প্রথম পছন্দ শিশুদের। ছেলেদের কেনাকাটায় অবশ্য বরাবরের মতোই জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবির দিকে বেশি ঝোঁক।

তবে বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সবকিছুর সঙ্গে বেড়েছে দামও। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পোশাকের দামে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বাড়তি খরচের কারণে পোশাকের দাম কিছুটা বেশি।

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে যা দাম পাওয়া গেছে:

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে ফ্রক ও স্কার্ট ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়, গাউন-সারারা ৮০০-১৫০০ টাকা, জিন্স প্যান্ট ৬০০-১০০০ টাকায় মিলছে। কালেক্টরেট মার্কেটে ফার্সি ড্রেস, গাউন, সারারা ১২০০ থেকে ৪০০০ টাকায়, ছেলেদের পাঞ্জাবি ৩০০-১৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

কাপুড়িয়াপট্টিতে মেয়েদের ফার্সি, গাউন, লেহেঙ্গা ২০০০ থেকে ৮০০০ টাকায়, ছেলেদের জিন্স প্যান্ট ১০০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিটি প্লাজার দোকানগুলোতে ফার্সি ড্রেস ৪০০০ থেকে শুরু, তা ছুঁয়েছে ১০ হাজার টাকাও। মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজগুলোতে থ্রি পিছ ২০০০-৬০০০ টাকা, লেহেঙ্গা ২৫৫০-৬০০০ টাকায় কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের এসকে ফ্যাশনের বিক্রেতা আকবর মোল্লা জানান, আট রোজা পার হওয়ার পর ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। তবে বিক্রি এখনো পুরোদমে হয়নি। কাপুড়িয়াপট্টির টম এন্ড জেরির মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘এবারের হাল ফ্যাশন ফার্সি ড্রেস। এটিই বেশি চলছে। তবে আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় দামও একটু বেশি।’

সিটি প্লাজার কিডস্ ক্লাবের স্বত্বাধিকারী এসকে মমিনুল ইসলামের কথায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ, ‘বিক্রি ভালোই। রোজার প্রথম থেকেই বেচাকেনা শুরু। সবার হাতে বেতন-বোনাস এলে বিক্রি আরও বাড়বে। আমদানি খরচ বেড়েছে, তাই আমাদের ব্যবসায়িক স্বার্থও দেখতে হচ্ছে।’

ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস্-এর বিক্রেতা রাকিব বিশ্বাস জানান, এখন পর্যন্ত বিক্রির সিংহভাগই শিশুদের পোশাকের। বড়দের কেনাকাটা এখনো শুরু হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে দোকান। ঈদের আগে সময় আরও বাড়ানো হবে।

সব মিলিয়ে, রোজার শেষ পেরিয়ে ঈদের আমেজ ছুঁতে শুরু করেছে যশোরের বাজার। শিশুদের কেনাকাটায় এখন তারই হাতেখড়ি।