bogra times
ঢাকাবুধবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে! ১০ হাজার কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ২:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান দাবি করেছে যে তারা সফলভাবে ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লা সম্পন্ন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এই সক্ষমতা অর্জনের ফলে তাত্ত্বিকভাবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড তেহরানের সরাসরি আঘাত হানার সীমানার মধ্যে চলে এলো। ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফল পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ এবং দেশটির সংসদের (মজলিস) প্রভাবশালী সদস্য মহসেন জানগানেহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানগানেহ জানান, “গত পরশু রাতে আমরা দেশের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি পরীক্ষা করেছি যা আগে কখনও করা হয়নি। এই পরীক্ষাটি সফল হয়েছে।”

ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষার ভাষা এবং সময় অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এটি কেবল রেঞ্জ বাড়ানোর পরীক্ষা নয়, বরং এটি ইরানকে ‘আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ (ICBM) সক্ষমতার অধিকারী দেশগুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট সংকেত।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি

যদিও ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কোনো স্বাধীন গোয়েন্দা সংস্থা এই পরীক্ষার শতভাগ সফলতার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে ইমাম খোমেনী স্পেসপোর্ট থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্র এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংকেত পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে:

  • কৌশলগত পরিবর্তন: ১০ হাজার কিমি পাল্লার একটি কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র ইরানকে আঞ্চলিক শক্তি থেকে একটি ‘বৈশ্বিক স্ট্রাইক অ্যাক্টর’ হিসেবে রূপান্তরিত করবে।

  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: এর ফলে ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলস এবং তেল আবিব থেকে টোকিও পর্যন্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার প্রতিফলন

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এই পরীক্ষা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার প্রতি ইরানের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এর আগে এক ইরানি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “আমেরিকা আমাদের থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে, আমাদের জাহাজগুলো তাদের ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেলে সেখান থেকে ওয়াশিংটন বা নিউ ইয়র্কে আঘাত হানা সম্ভব।” বর্তমান এই পরীক্ষা সেই হুঁশিয়ারিকে বাস্তব রূপ দেওয়ারই একটি অংশ।

রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শিল্প সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান প্রক্সি যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবরটি সামনে এলো। পশ্চিমা ও এশীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদরা এখন ইরানের এই নতুন আইসিবিএম (ICBM) সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন।