bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের বন্ধু হতে চায়: ওয়াশিংটন পোস্টের ফাঁস হওয়া অডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-

ওয়াশিংটন পোস্টের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ও কোণঠাসা থাকা ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতিবেদনটি ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা কয়েকটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাত দেওয়া হয়েছে।

মূল দাবি ও অডিও রেকর্ডিংয়ের বিবরণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর (২০২৫) ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন যে, বাংলাদেশ এখন “ইসলামি ধারায় ঝুঁকেছে” (shifted Islamic)। তিনি পূর্বাভাস দেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো ফল করবে”।

ওই কূটনীতিক স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই” (“We want them to be our friends”)। তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা করেন যে, তারা জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যদের টকশোতে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন কি না।

কূটনীতিক শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়াহ চাপিয়ে দিতে পারবে”। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দলটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেয় (যেমন নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো বা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে বাদ দেওয়া), তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ১০০ শতাংশ ট্যারিফ (শুল্ক) আরোপ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, এবং এমন পদক্ষেপ অর্থনীতিকে মুখ থুবড়ে ফেলতে পারে। তবে তিনি আশাবাদী যে, জামায়াতের মধ্যে অনেক শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক আছে, তারা এমনটা করবে না।

মার্কিন দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই (Monica Shie) এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের ওই বৈঠক ছিল স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি রুটিন অফ-দ্য-রেকর্ড আলোচনা। সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল নিয়ে কথা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলের পক্ষ নেয় না এবং জনগণের নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান

জামায়াতের মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের মন্তব্য নিয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না। দলটি দাবি করে যে, তারা এখন দুর্নীতি নির্মূল, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ইশতেহার নিয়ে নির্বাচন করছে। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই, এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে সম্ভাব্য টানাপোড়েন

দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই নমনীয়তা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করতে পারে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াত এখন মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল), যার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠনে আগ্রহী, যদিও তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতকে জোটে নিতে অনাগ্রহী।

এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, আসন্ন নির্বাচন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ওপর নতুন আলোকপাত করছে।

সুত্র- https://www.washingtonpost.com/world/2026/01/22/bangladesh-jamaat-elections-bnp-trump/